পর্নোগ্রাফি মামলায় হানি ট্র্যাপখ্যাত লাইলি কারাগারে
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
হানি ট্র্যাপখ্যাত লাইলি আক্তার। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লার দেবিদ্বারে হানি ট্র্যাপ করে মোকবল হোসেন মাস্টার নামে স্কুলশিক্ষককে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরালের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত লাইলি আক্তারকে (৩৫) গ্রেফতারের পর জেলে পাঠিয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভুক্তভোগী মোকবল হোসেন মাস্টার অভিযুক্ত লাইলি আক্তারকে এজাহারভুক্ত করে এবং অজ্ঞাত তিন নারী ও পাঁচ পুরুষের নামে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। গ্রেফতার লাইলি আক্তার উপজেলার ঘোষঘর গ্রামের আব্দুর রশিদ মিয়ার মেয়ে।
ভুক্তভোগী মোকবল হোসেন জানান, তার আত্মীয় ইমনের সঙ্গে লাইলি আক্তারের গাড়ি বিক্রির লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য তাকে অনুরোধ করে সে। সেই সুবাদে গত ৬ এপ্রিল তিনি মসজিদে নামাজ পড়ে বের হন। মসজিদের পাশেই লাইলি আক্তার তার বাসায় বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন বলে ডেকে নেন। সেখানে যাওয়ার পর তিনজন নারী ও পাঁচজন পুরুষ তাকে আটক করে ফেলে এবং তার আত্মীয়র কাছ থেকে পাওয়া টাকা আদায় করে দিতে চাপ প্রয়োগ করে।
তিনি দ্বিমত পোষণ করলে, জোরপূর্বক তার সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা করে ভিডিও ধারণ করে তারা। ফের তাকে নির্যাতন ও মারধর করে একটি ভিডিও ধারণ করেন লাইলিসহ চক্রটি। গোপন ভিডিও দিয়ে জিম্মি করে তার পকেট থেকে ৭ হাজার টাকা এবং তার আত্মীয় ইমনের কাছ থেকে ফোনে তার মাধ্যমে বিকাশে ২০ হাজার টাকা আদায় করে। এতেও তারা ক্ষ্যান্ত হয়নি তারা। আরও নগদ ১ লাখ টাকা ফের জিম্মি করে আদায় করে।
এরইমধ্যে মোকবল হোসেন মাস্টারকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওর সূত্র ধরে দেবিদ্বার থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে লাইলি আক্তারকে গ্রেফতার ও জিম্মি মোকবল হোসেনকে উদ্ধার করে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে লাইলি আক্তারকে হানি ট্র্যাপের সদস্য বলে তার একাধিক ভিডিও, ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হতে থাকে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে আওয়ামী লীগের এক নেতা ও বিএনপির অনেক নেতাকে একইভাবে জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা যায়। তার এ হানি ট্র্যাপ থেকে বাদ যায়নি বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতারাও।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, লাইলি দীর্ঘদিন ধরে মাদকসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে এবং দেহব্যবসার আড়ালে গোপন ভিডিও ধারণ করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিত্তশালীদের টার্গেট করতো সে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত লাইলি আক্তার জানান, মোকবল হোসেন মাস্টারের সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। ভুক্তভোগীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও তার মোবাইলে রয়েছে।
দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, একাধিক সূত্রে পাওয়া নির্যাতনের ভিডিওর সূত্র ধরে আমরা লাইলিকে গ্রেফাতার ও জিম্মি মোকবল হোসেন মাস্টারকে উদ্ধার করেছি। এই নারী বিভিন্ন অপর্কমের সঙ্গে জড়িত। ভুক্তভোগীর দায়ের করা পর্নোগ্রাফি মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠিয়েছি।

-69d524c1055ef.jpg)