পুলিশ কর্মকর্তার ভয়ঙ্কর নারী ফাঁদ, অতঃপর...
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
অভিযুক্ত কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক তকিবুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তা আর বিপথগামী এক নারী মিলে তৈরি করেছেন ভয়ঙ্কর ফাঁদ। সেই ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেকে। কেউ বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে রক্ষা পেয়েছেন আবার কেউ হয়েছেন মামলার আসামি।
এমনই এক অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক তকিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। তার হাত থেকে রেহাই পাননি ৬৫ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালীগঞ্জের রাকড়া গ্রামের মৃত অধির ঘোষের মেয়ে পিংকি রানী ঘোষ অপ্রাপ্ত বয়সে স্থানীয় এক হিন্দু যুবকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিছুদিন যেতে না যেতেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে সে। এর দেড় বছরের মাথায় পার্শ্ববর্তী কোটচাঁদপুর উপজেলার এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে আবারও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। তার ওই সংসারে একটি সন্তানের জন্ম হয়। এর কিছুদিন পর স্বামী-সন্তানকে ফেলে রেখে সেখান থেকে চলে আসে। এরপর পরিচয় হয় পুলিশের উপ-পরিদর্শক তকিবুর রহমানের সঙ্গে। পরে দুজনে মিলে গড়ে তোলেন ভয়ঙ্কর এক ফাঁদ। তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে অনেকে দিয়েছেন লাখ লাখ টাকা, অনেকে হয়েছেন মামলার আসামি। আবার কেউ ছেড়েছেন নিজের বাড়িঘর।
জানা গেছে, পুলিশ কর্মকর্তা তকিবুর ও পিংকির ফাঁদে পড়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলার ষাটোর্ধ অনোয়ার হোসেন, মুজাহিদুল ইসলামসহ অনেকে। তাদের চাহিদামতো টাকা দিয়ে অনেকে আবার মামলা থেকে রেহাই পেয়েছেন।
জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, এসব ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে চললেও সংশ্লিষ্টরা নজর দিচ্ছে না। আর এ ঘটনা তো নজিরবিহীন। অনতিবিলম্বে এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগের বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক তকিবুর রহমান বলেন, এমন ঘটনা আমি ঘটাতেই পারি না। এসব নিয়ে লেখালেখির দরকার নেই।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, দুটি ঘটনা আমি এখানে যোগদানের আগের, তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

