চুরির অপবাদে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল
Advertisement
ফরিদপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় চুরির অপবাদে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার। রোববার দিবাগত রাতে এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
এর আগে শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় ইয়াসিন ও শাকিল তাকে ঘর থেকে বের করে বাড়ির পাশে একটি গাছের বেঁধে নির্মমভাবে পেটায়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের চর চান্দড়ায় চুরির অপবাদে মৃত মোছেন শেখের ছেলে কিশোর মো. হোসাইনকে (১৫) নিজ বাড়ির পাশে গাছে বেঁধে নির্যাতন করেন স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন।
ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরটি বেদম প্রহারে বেশ কয়েকবার অসুস্থ হয়ে পড়লেও ‘অভিনয় করছে’ বলে আরও বেশি করে নির্যাতন করা হয়। পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফিরোজ মোল্যার নেতৃত্বে ওই কিশোরের ওপর অমানবিক নির্যাতন করেন গ্রামটির মো. সাবের হোসেনের ছেলে ইয়াছিন ও আকরাম শেখের ছেলে শাকিল। সারা দিন দফায় দফায় তার ওপর নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, নির্যাতনের শিকার কিশোর হোসাইন ঢাকায় একটি ফার্নিচারের কারখানায় কাজ করে। সম্প্রতি ছুটিতে বাড়ি আসে হোসাইন। এ সময় কারখানাটিতে একটি ড্রিল মেশিন চুরি যায়। সেই চুরির ঘটনায় তাকে চোর অপবাদ দিয়ে গাছে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।
ভুক্তভোগী কিশোর হোসাইন বলেন, আমি ঢাকা থেকে বাড়ি আসার পরদিন আমাকে ঘরে আটকে রাখে। পরে গাছে বেঁধে ইয়াছিন ও শাকিল আমাকে মারপিট করে। পুলিশ এলে তারা বলেন, যেহেতু মারধর করা হয়েছে তাহলে আমরা আর কী করব।
ভুক্তভোগী কিশোরের মা বানু বেগম বলেন, আমার ছেলে ঢাকায় থাকে। সে বাড়িতে আসার পর ইয়াছিন, শাকিলসহ তিনজন আমার ছেলেকে বেদমভাবে মারছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ছেলেটিকে বেদম প্রহার করা হয়েছে। জামা খোলার পর দেখা যায় পিঠে মারপিটের দাগ।
স্থানীয় গ্রামপুলিশ মো. রাহাত ইসলাম রাসেল বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্যাতিত কিশোর ও এক নির্যাতনকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলেও পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান তাদের মাঝপথ থেকে ছাড়িয়ে রাখেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো. ফিরোজ শেখ বলেন, বিল্লাল নামে একজন আমাকে খবর দিলে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেটিকে পুলিশে দিতে বলি; কিন্তু কারো কাছে পুলিশের মোবাইল নম্বর না থাকায় এবং আমি ব্যস্ত থাকায় ওই অবস্থায় রেখে চলে আসি। তবে আমার সামনে মারধর করা হয়নি।
পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান বলেন, স্থানীয় মেম্বার আলমগীর হোসেনের মাধ্যমে জানতে পেরে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে আমার জিম্মায় আটকদের ছাড়িয়ে রাখি।
আলফাডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. আবুল হাসনাত খান বলেন, কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় ভিডিও পর্যালোচনা করে রাতেই তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে। আটকদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী, বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা সার্কেল) মো. আজম খান বলেন, ভিডিও দেখেছি। ভিডিওটি দেখার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
