ইছামতি নদীতে তিন দিনের ব্যবধানে দুই লাশ উদ্ধার
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মহেশপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে তিন দিনের ব্যবধানে দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে রতিকান্ত জয়ধর (৪৫) নামের এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত সোমবার রাতে একই নদীর পাড় থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কচুরিপানার নিচে থাকা লাশ পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা উৎস খুঁজতে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে রতিকান্ত জয়ধরের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে সোমবার রাতে পলিয়ানপুর সীমান্ত এলাকার ইছামতি নদীর পাড়ে একটি অজ্ঞাত যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই লাশ উদ্ধার করে। তবে চার দিন পার হলেও ওই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
নিহত রতিকান্ত জয়ধর গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার পলোটানা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ জয়ধরের ছেলে।
এ ঘটনায় তার ছোট ভাই রঞ্জিত জয়ধর মহেশপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। একই সঙ্গে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
নিহতের ভাই রঞ্জিত জয়ধর জানান, তার ভাই গত ৯ এপ্রিল মাদারীপুর জেলার ভেন্নাবাড়ী গ্রামের মামার বাড়িতে বেড়াতে যান। পরে ১২ এপ্রিল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। বৃহস্পতিবার লাশ শনাক্ত করেন তিনি। তার দাবি, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত পারাপারের সময় ভারতীয় বিএসএফ অথবা অজ্ঞাত ব্যক্তিরা গুলি করে হত্যার পর কচুরিপানার নিচে মরদেহ গুম করে রাখতে পারে। রতিকান্ত জয়ধর দীর্ঘদিন পরিবারসহ ভারতে বসবাস করতেন বলেও জানান তিনি।
মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে তিন দিনের ব্যবধানে দুইটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটির পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। নিহত রতিকান্ত জয়ধরের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। অপর অজ্ঞাত লাশের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

