Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

আসামির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, গণপিটুনির শিকার পুলিশ কর্মকর্তা

Advertisement

Icon

ফরিদপুর ব্যুরো ও সালথা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

আসামির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, গণপিটুনির শিকার পুলিশ কর্মকর্তা

ফাইল ছবি।

Advertisement

ফরিদপুরের সালথায় এক আসামির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন মো. ইমরান হাসান (৪০) নামে পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)। 

গভীর রাতে আসামির স্ত্রীর ঘর থেকে হাতেনাতে আটকের পর উত্তেজিত এলাকাবাসী তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। 

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

আহত এএসআই ইমরান সালথা থানায় কর্মরত এবং ওই ইউনিয়নের সহকারী বিট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। 

এ ঘটনার ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে ওই পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেন, তিনি আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন। আর মাদক মামলার আসামির পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি এটি পরকীয়ার ঘটনা।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এএসআই ইমরানের গায়ে পুলিশের পোশাক নেই। তিনি প্যান্ট ও টি-শার্ট পরা। তার মাথা কাপড় দিয়ে বাঁধা। মুখে রক্ত মাখা। গভীর রাতে নারীর ঘরে একা ঢুকে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে কোনো এক ব্যক্তি তার গায়ে আঘাত করছেন। তখন ইমরানকে বলতে শোনা যায়, তুই আমার ভাই না, মারিস কেন? পরে ইমরানের পকেট থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর প্যাকেট পাওয়া যায় বলে দাবি করেন ভিডিও ধারণকারী ওই ব্যক্তি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বলিভদ্রদিয়া এলাকার মো. মেহেদী হাসান (২৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে সালথা ও পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে। মামলার সুবাদে ইমরান হাসান আসামি মেহেদী হাসানের বাড়িতে ঘনঘন যাওয়া-আসা করতেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে মেহেদীর স্ত্রীর সঙ্গে ইমরানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আসামি মেহেদী হাসানের বসতঘরে ঢুকে তার স্ত্রীর সঙ্গে একা দেখা করতে গেলে এলাকার লোকজনের হাতে ধরা পড়ে মারধরের শিকার হন।

খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমরান হাসানকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। 

এ বিষয়ে এএসআই ইমরান হাসানের দাবি, তিনি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে সাদা পোশাকে রাত ৩টার সময় আসামিকে একা ধরতে যাওয়ার ব্যাখ্যা দিতে তিনি রাজি হননি।

আসামি মেহেদী হাসান বলেন, আমি একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। ব্যবসায়িক কাজে আমি মাঝে মাঝে বাইরে থাকি। এ সুযোগে আমাদের ইউনিয়নে পুলিশের বিট অফিসার হিসেবে দায়িত্বে থাকা এএসআই ইমরান মাঝে মাঝে আমার বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব দেয়। একপর্যায় আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে এএসআই ইমরানের কুরুচিপূর্ণ কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করি। এর মধ্যে শুক্রবার গভীর রাতে ইমরান আমাদের ঘরে ঢুকলে এলাকাবাসী হাতেনাতে ইমরানকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। 

এ বিষয়ে সালথা থানার ওসি মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, মাদক মামলার আসামি ধরতে গেলে মাদক ব্যবসায়ী মেহেদীর পরিবার তাকে আটক করে মারধর করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। 

গভীর রাতে একা কেন মাদকের আসামি ধরতে গেলেন? এ প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন, রাতের আঁধারে একা এবং পুলিশের পোশাক ছাড়া আসামির বাড়িতে কেন গিয়েছিলেন- বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

আবাসিক হোটেল থেকে ইয়াবাসহ দুই পুলিশ সদস্য গ্রেফতার

আবাসিক হোটেল থেকে ইয়াবাসহ দুই পুলিশ সদস্য গ্রেফতার

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের লাশ

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের লাশ

ডিএমপির অভিযান: গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮১, মামলা ৪০

ডিএমপির অভিযান: গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮১, মামলা ৪০

পূজায় বাড়ি যাওয়া হলো না পুলিশ সদস্যের

পূজায় বাড়ি যাওয়া হলো না পুলিশ সদস্যের

প্রেমিকের বাসায় মিলল প্রেমিকার স্বামীর লাশ

প্রেমিকের বাসায় মিলল প্রেমিকার স্বামীর লাশ

কুমিল্লা সীমান্ত থেকে দুই পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

কুমিল্লা সীমান্ত থেকে দুই পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

আরও পড়ুন

‘আমি ওরে ছাড়া থাকমু কেমনে’— স্ত্রীকে হারিয়ে ছাত্রদল নেতা ফয়সাল

‘আমি ওরে ছাড়া থাকমু কেমনে’— স্ত্রীকে হারিয়ে ছাত্রদল নেতা ফয়সাল

মা ইলিশ শিকারে ‘নিরাপত্তা বাণিজ্য’, নেপথ্যে যারা

মা ইলিশ শিকারে ‘নিরাপত্তা বাণিজ্য’, নেপথ্যে যারা

‘ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্ট’

‘ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্ট’

কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ড টয়লেটে মিলল আরও ৪ লাশ, নিহত বেড়ে ১০

টয়লেটে মিলল আরও ৪ লাশ, নিহত বেড়ে ১০

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম