Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

লালমোহন হাসপাতালে বিদ্যুৎ সংকট চরমে, মোবাইলের লাইটে চিকিৎসাসেবা

Advertisement

Icon

মো. জসিম জনি, লালমোহন (ভোলা) থেকে

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

লালমোহন হাসপাতালে বিদ্যুৎ সংকট চরমে, মোবাইলের লাইটে চিকিৎসাসেবা

মোবাইলের লাইটে চিকিৎসাসেবা

Advertisement

ভোলার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই সরকারি হাসপাতালে বিদ্যুৎ চলে গেলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে রোগী, স্বজন ও কর্তব্যরত নার্সদের।

এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নিতে বাধ্য হয়ে মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করছেন নার্সরা।

রাত হলেই ভর্তিকৃত রোগী ও স্বজনদের উপস্থিতিতে হাসপাতালের অভ্যন্তর যেন ভুতুরে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। চারদিকে শিশু ও রোগীদের চিৎকার চেঁচামেচি শোনা গেলেও অন্ধকারে কাউকে দেখা যায় না। একমাত্র মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বেলে তখন রোগী শনাক্ত করতে হয়।

লালমোহনের এই সরকারি হাসপাতালের এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সোজা বক্তব্য ‘জেনারেটর নষ্ট, কিছুই করার নেই’।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় ভেতরে অন্ধকারে শিশু ও রোগীদের চিৎকার। মোবাইলের ক্ষীণ আলো দিয়ে দেখা যায় স্বজনরা হাতপাখা দিয়ে শিশু ও রোগীদের বাতাস দিচ্ছে। কথা হয় রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে।

একাধিক রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, এখানে বিদ্যুৎ চলে গেলে মনে হয় আমরা কোনো হাসপাতাল নয়, অন্ধকার গুহায় আছি। রোগীর অবস্থা খারাপ হলেও দ্রুত কিছু করার মতো পরিবেশ থাকে না। এটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

নার্সদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাতে ডিউটি করা খুবই কষ্টকর হয়ে যায়। বিদ্যুৎ না থাকলে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে রোগী দেখা লাগে। এতে যেমন ঝুঁকি থাকে, তেমনি সঠিকভাবে কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি আরও জানান, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও রোগী আছেন ১১০ জন। তাদের সেবা দিতে অনেক হিমশিম খেতে হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবু মাহমুদ তালহা বলেন, জেনারেটর নষ্ট হয়ে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত কিছু করার নেই।

তবে রোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জেনারেটর বিকল হয়ে থাকলেও তা মেরামতের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলেই পুরো হাসপাতাল কার্যত অচল হয়ে পড়ে। আইপিএসও কাজ করছে না।

একদিকে প্রচণ্ড তাপদাহ ও অন্যদিকে বিদ্যুৎ গেলে হাসপাতালে থাকাই কষ্টকর হয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ একবার গেলে দীর্ঘক্ষণ থাকে না। এমনভাবে একাধিকবার লোডশেডিং চলে। এই গরমে ফ্যান না চললে রোগীরা আরও অসুস্থতা বোধ করেন। তার ওপর রোগীর চাপ।

ডাক্তার ও নার্সরা কষ্ট করলেও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এসব বিষয়ে তার কোনো নজর নেই বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের। তিনি নিয়মিত উপস্থিতও থাকেন না। যে সময় আসেন দরজা বন্ধ করে অফিস করেন। রোগীও দেখেন না। কিছুক্ষণ পরপর আবার বেরিয়ে কোয়ার্টারে চলে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মো. আবু মাহমুদ তালহা বলেন, ‘স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অনেক কাজ থাকে, অনেক মিটিং থাকে। তার জন্য বাইরে থাকতে হয়। রোগী দেখা কাজ নয়। ডাক্তার সংকট থাকলে তখন রোগী দেখা হয়।’

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

‘সমাজের নিকৃষ্ট লোকরাই এমপি-মন্ত্রী হয়’— বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন স্পিকার

‘সমাজের নিকৃষ্ট লোকরাই এমপি-মন্ত্রী হয়’— বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন স্পিকার

১০ বছরেও হাসিনার দেশে ফেরা সম্ভব না: স্পিকার

১০ বছরেও হাসিনার দেশে ফেরা সম্ভব না: স্পিকার

হাসপাতালের রাস্তা কাগজে, বাস্তবে নেতার বাড়ির পথ!

হাসপাতালের রাস্তা কাগজে, বাস্তবে নেতার বাড়ির পথ!

অন্তঃসত্ত্বাদের দুর্ভোগ, হাসপাতালের বরাদ্দে পাকা হলো নেতার বাড়ির সড়ক

অন্তঃসত্ত্বাদের দুর্ভোগ, হাসপাতালের বরাদ্দে পাকা হলো নেতার বাড়ির সড়ক

বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ, গণপিটুনিতে যুবক নিহত

বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ, গণপিটুনিতে যুবক নিহত

আরও পড়ুন

‘ঋণ না দেওয়ায়’ ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা যুবকের

‘ঋণ না দেওয়ায়’ ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা যুবকের

পূর্বাচলে ট্রাক-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই স্কুলছাত্র নিহত

পূর্বাচলে ট্রাক-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই স্কুলছাত্র নিহত

চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ২০ জেলের কারাদণ্ড

চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ২০ জেলের কারাদণ্ড

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল, জানা গেল কারণ

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল, জানা গেল কারণ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম