Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

সংসার করতে স্ত্রীর ৯ শর্তে যুবকের আত্মহত্যা, বেরিয়ে এলো ভিন্ন তথ্য

Icon

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

সংসার করতে স্ত্রীর ৯ শর্তে যুবকের আত্মহত্যা, বেরিয়ে এলো ভিন্ন তথ্য

নিহত যুবক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (২৩)। ফাইল ছবি

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে নিজের মায়ের গায়ে হাত তোলার অনুশোচনা এবং জমিজমা নিয়ে দুই বোনের সঙ্গে বিরোধের জেরে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (২৩) নামে এক যুবকের আত্মহত্যার তথ্য পাওয়া গেছে।  

গত বুধবার (৬ মে) ভোরে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের সুফিরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  

প্রাথমিকভাবে স্ত্রীর ওপর অভিমান করে আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লেও সরেজমিন অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন চিত্র।

নিহত আনোয়ার ওই এলাকার মৃত জবিউল ডাক্তারের ছোট ছেলে। পরিবারে মা, দুই বোন এবং অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বসবাস করছিলেন।

স্থানীয় ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৈতৃক জমি কেনাবেচা নিয়ে আনোয়ারের সঙ্গে তার দুই বোন নাজমা ও শারমিন আক্তারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। 

অভিযোগ রয়েছে, জমি বিক্রির কথা বলে দুই বোন আনোয়ারের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নিলেও জমি রেজিস্ট্রি করে দিচ্ছিলেন না। এ নিয়ে গত ১ মে ঘরে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে মা তার দুই মেয়ের পক্ষ নেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আনোয়ার মায়ের ওপর চড়াও হন এবং তাকে মারধর করেন।

আনোয়ারের খালাতো ভাই সোলতান হোসেন রিপন ও বোন নাজমা বেগম জানান, মায়ের গায়ে হাত তোলার পর থেকেই আনোয়ার চরম মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। তিনি বারবার বলছিলেন, আমি মায়ের গায়ে হাত দিয়ে অনেক বড় পাপ করেছি। এই তীব্র অনুশোচনা এবং পারিবারিক টানাপোড়েন সইতে না পেরেই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহতের বোন শারমিনের দাবি, আনোয়ারের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার বাবার বাড়ি চলে যাওয়ার সময় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন। পরবর্তীতে আনোয়ার তাকে ফিরিয়ে আনতে শ্বশুরবাড়ি গেলে সেখানে তাকে অপমান-অপদস্ত করা হয়। মূলত শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দুর্ব্যবহার ও স্ত্রীর ৯টি কঠিন শর্তের চাপে আনোয়ার আত্মহত্যা করেছেন।  

তবে নিহতের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমি ও টাকা নিয়ে দুই ননদ আনোয়ারকে খুব জ্বালাতন করত। ওইদিন আনোয়ারের মা মেয়েদের পক্ষ নিয়ে ঝগড়া শুরু করলে আনোয়ার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মায়ের গায়ে হাত তোলেন। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। পরে আমি বাবার বাড়ি চলে আসি। 

রামগতি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের কলহ মেটাতে সালিশি বৈঠকের কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই আনোয়ার আত্মহত্যা করেছে।

রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .