জামালপুরে ৮০০ কেজির ‘ক্রিস গেইল’-কে কিনতে ক্রেতাদের ভিড়
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
জামালপুরে ৮০০ কেজির ‘ক্রিস গেইল’। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আলোচনায় উঠে এসেছে জামালপুর পৌর শহরের পাথালিয়া এলাকার ময়না এগ্রো ফার্মের বিশাল আকৃতির গরু ‘ক্রিস গেইল’। ৮০০ কেজি ওজনের গরুটি কিনতে ইতোমধ্যেই ফার্মে ভিড় করছেন ক্রেতারা। এদিকে প্রত্যাশিত দাম পাওয়ার আশায় ঈদের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি ‘ক্রিস গেইলের’ মালিক মো. দিয়া মিয়া।
খামারের মালিক দিয়া মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, তিন বছর আগে এক খামারির কাছ থেকে ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে গরুটি কেনা হয়। তিনি যখন গরুটি কিনেছিলেন তখন গরুটির বয়স ছিলো ৬ মাস। তিনি গরুটি কেনার পর তার নাম দেন ‘ক্রিস গেইল’। মূলত তিনি ক্রিকেটার ‘ক্রিস গেইলের ভক্ত, সেই থেকেই সে তার গরুটির নাম ‘ক্রিস গেইল’ দিয়েছে। তিন বছর লালল-পালনের পর বর্তমানে উচ্চতায় ৫ ফিট ৬ ইঞ্চি ও লম্বাই ৬ ফিট ৬ ইঞ্চি গরুটির ওজন হয়েছে প্রায় ৮০০ কেজি।
খামার সূত্রে জানা গেছে, গরুটি বিক্রির জন্য খামারের মালিক দিয়া মিয়া দাম চাচ্ছে ৬ লাখ টাকা। ইতিমধ্যেই অনেক ক্রেতা গরুটি কিনতে আসলেও প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় গরুটি বিক্রি করেনি দিয়া মিয়া। প্রত্যাশিত দামের জন্য ঈদের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি তিনি।
খামারের মালিক বলেন, ‘ক্রিস গেইল’ অনেক মায়াবী একটি গরু। আমি কখনো ওরে একটা বেত আঘাত করতে দেইনি। ওরে যখন আমার খামার থেকে নিয়ে যাবে তখন আমার কেমন লাগবে সেটা একমাত্র আমিই জানি। ওর সামনে কেউ দামাদামি করলে ওর যেমন খারাপ লাগে, ওর যেমন চোখ দিয়ে পানি পড়ে। তেমন আমারো খারাপ লাগে আমারো চোখ দিয়ে পানি পড়ে। আমি এটার দাম চাচ্ছি ৬ লাখ। অনেকে দাম করেছে কিন্তু আমার প্রত্যাশিত দাম কেউ বলেনি। আমি ঈদের দিন পর্যন্ত দেখবো।
‘ক্রিস গেইলকে’ কিনার উদ্দেশ্যে দেখতে আসা আব্বাস বেপারি (৬৫) বলেন, আমি অন্য বেপারিদের কাছে শুনলাম এই খামারে বড় গরু আছে। গরুটি ভালো জাতের উচা-লম্বা মাংস ভালোই হয়ে। তবে গরুর মালিক যে দাম চাচ্ছে ওই দামে আমি গরুটি নিতে পারবো না। ওই দামে নিয়ে আমি বিক্রি করে লাভ করতে পারব না।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ডা. এ.টি.এম হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমে বলেন, আমি ময়না এগ্রো ফার্মের সবচেয়ে বড় গরু যেটার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্রিস গেইল’ সেটার কথা শুনেছি। আমদের মেডিকেল টিম গিয়ে দেখেও এসেছে। আমাদের সারা জেলায় মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫টি কুরবানির পশু প্রস্তুত আছে। জেলার কুরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৮২ হাজার ১৫টি। আমাদের কাছে যে পশু আছে তা দিয়ে আমাদের জেলার চাহিদা মিটিয়ে আরো প্রায় ২৫ হাজার পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠাতে পারব। আমরা খামারগুলোতে যাচ্ছি এবং খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।

