সাবরেজিস্ট্রার অফিস এজলাস কক্ষে দলিলপ্রতি টিপসইয়ে ৫০০ টাকা ঘুস
Advertisement
ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রার অফিসে এজলাস কক্ষে দলিল করতে প্রকাশ্যে নেওয়া হচ্ছে ঘুস। এ ঘুস আদায় করার দায়িত্বে রয়েছেন খোদ অফিসের পিয়ন মো. মবিনুল হক।
ছোট দলিলে ২শ-৩শ আর বড় দলিলে ৫শ-৮শ টাকা পর্যন্ত ঘুস আদায় হয় এখানে।
সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানার পর জেলা রেজিস্ট্রার কর্মকর্তা ওই পিয়নকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করেন। ঘুস আদায়ের বিষয়ে দলিল দাতা-গ্রহীতার একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ জানিয়েছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, পিয়ন মো. মবিনুল হক এজলাস কক্ষে প্রকাশ্যে দলিলে টিপসই দিতে ৫শ টাকা নিতে দেখা যায়। ছোট বড় কয়েকটি দলিলে টিপসই দিতে ৩শ থেকে ৮শ টাকা নিচ্ছেন তিনি। এখানে প্রতি সপ্তাহে ৪০-৫০ হাজার টাকা ঘুস আদায় করছেন তিনি। যা এ মাসের হিসাবে ২ লাখ টাকা দাঁড়ায়। এই টাকার ভাগ ওই পিয়ন থেকে শুরু করে অফিসের সব কর্মকর্তার পকেটে যায়। শুধু তাই নয়, দলিলের ত্রুটি থাকলেও গুনতে হয় মোটা অংকের টাকা। এই অফিসের বিরুদ্ধে গত কয়েক মাস আগেও জাল দলিল করার অভিযোগ ও রয়েছে; যা নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে।
সাবরেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলায় সাবরেজিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান পাশাপাশি শরীয়তপুর সদর উপজেলার সাবরেজিস্টার অফিসের দায়িত্বে রয়েছেন। তাই তিনি ভেদরগঞ্জ উপজেলায় সোমবার ১ দিন, সখিপুরে রোববার ১ দিন বাকি তিন দিন শরীয়তপুর সদর উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন।
দলিল দাতা রাজন আলী বলেন, আমাদের কাছে ৫শ টাকা নিয়েছে। এখানে টিপ দিতে সবসময় টাকা নেয়। কেউ টাকা দিলে না করতে পারে না তারা।
পিয়ন মো. মবিনুল হক বলেন, আমি একটি দলিলের নকলের টাকা নিচ্ছিলাম। কোনো ঘুস নেইনি। আর এখন আমি কয়েক দিন ধরে দায়িত্ব পালন করছি না। আমাকে শোকজ করেছে। ভাই আসলে সত্যি বলতে কী পানি সব সময় নিচের দিকে গড়ায়। আচ্ছা আপনি আমার সঙ্গে দেখা করেন ভাই প্লিজ। নিউজ কইরেন না।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা রেজিস্ট্রার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার এখানে দলিল করতে কোনো ঘুস লাগে না এবং পিয়নের ঘুস নেওয়ার বিষটি আমি জানি না। তবে সেদিন জানতে পেরে জেলা স্যারকে জানিয়েছি। পরে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুর জেলা রেজিস্ট্রার হেলেনা পারভীন বলেন, মো. মবিনুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানতে পেরে আমি তাকে লিখিতভাবে শোকজ করেছি। তিনি এখনো কেন জবাব দেননি। আর সাব রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
