Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

শিশুকে হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণচেষ্টা, সন্তান ফেলে পালিয়ে বাঁচলেন গৃহবধূ

Advertisement

Icon

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম

শিশুকে হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণচেষ্টা, সন্তান ফেলে পালিয়ে বাঁচলেন গৃহবধূ

Advertisement

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক মাস পাঁচ দিন বয়সি সন্তানকে হত্যার ভয় দেখিয়ে এক গৃহবধূকে (২৫) ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সন্তানকে ফেলে রেখে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের বাজারে গিয়ে ঘটনাটি জানান ভুক্তভোগী নারী। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

রোববার (১৭ মে) রাত ৮টার দিকে কেন্দুয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার একটি নির্জন পাটখেতে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের ওই নারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে নেত্রকোনার মদন উপজেলার নায়েকপুর গ্রামের রিপন মিয়ার। পরে তাদের বিয়ে হয়। তবে দাম্পত্য কলহের জেরে গত শুক্রবার শ্বশুরবাড়ির লোকজন এক মাস পাঁচ দিন বয়সি শিশুসন্তানসহ তাকে একতরফাভাবে তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীর দাবি, আইনি সহায়তার জন্য মদন থানায় গেলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এরপর রোববার বাবার বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে তিনি রওনা হন। বিকাল ৪টার দিকে কেন্দুয়ার সীমান্তবর্তী তাম্বুলিপাড়া এলাকার আব্দুর রউফ (৫৫) নামে এক ব্যক্তির দোকানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। পরে শ্রীরামপাশা গ্রামের ওই ব্যক্তি তাকে রাতে নিরাপদে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। সরল বিশ্বাসে তার সঙ্গে রওনা হলে রউফ তাকে নদীর তীরবর্তী নির্জন পাটখেতে নিয়ে যান বলে জানান তিনি। 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে একটি ধারালো দা বের করে শিশুকে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে প্রাণভয়ে তিনি সন্তানকে ঘটনাস্থলে ফেলেই অন্ধকারে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে কেন্দুয়া উপজেলার সাজিউরা বাজারে গিয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। 

রাত ৯টার দিকে নদীর তীরবর্তী ধইঞ্চা ক্ষেতের একটি ড্রেন থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অভিযুক্ত রউফের দোকানে ভাঙচুর চালান।

এ বিষয়ে কান্দিউড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য কাশেম মিয়া বলেন, রাতে ওই নারী সাজিউরা বাজারে এসে চিৎকার করছিলেন। আমরা গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করি। এ ঘটনায় কঠোর শান্তির দাবি জানাই। 

পরে খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী নারী ও শিশুকে উদ্ধার করে থানায় নেয়।

কেন্দুয়া থানার ওসি মেহেদী মাকসুদ জানান, সোমবার ভোরে মদন উপজেলার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে মদন থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযুক্ত আব্দুর রউফকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে মদন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থল মদন থানার আওতাধীন হওয়ায় সেখানেই মামলা হবে।  ভুক্তভোগী নারী ও শিশুকে বর্তমানে থানায় নিরাপদে রাখা হয়েছে।

মদন থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত আব্দুর রউফ মদন থানায় আটক রয়েছেন। ঘটনাস্থল কোন থানার আওতাধীন তা যাচাই করা হচ্ছে।  নির্ধারণের পর সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হবে।

তিনি আরও জানান, এর আগে ওই নারী কোনো অভিযোগ নিয়ে থানায় যাননি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম