হত্যার পর ঘরে একদিন রেখে কবরস্থানে স্ত্রীকে মাটিচাপা
Advertisement
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
মাধবদী থানা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নরসিংদীর মাধবদীতে স্ত্রী হোসনে আরা বেগমকে (৩৯) হত্যার পর লাশ গুম করার ঘটনায় স্বামীকে আটক করেছে মাধবদী থানা পুলিশ। স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ এক দিন ঘরে রেখে কবরস্থানে নিয়ে মাটিচাপা দেন স্বামী।
বুধবার রাতে স্বামী শরীফ মিয়াকে (৪২) তার শ্বশুরবাড়ি কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের নোয়াকান্দা গ্রাম থেকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে হোসনে আরা বেগমের ভাই বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত হোসনে আরা বেগম কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের নোয়াকান্দা গ্রামের মো. রহমান মিয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত শরীফ মিয়া মাধবদীর ভগিরথপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি মাধবদী গরুর হাট এলাকায় একটি চায়ের দোকানে কাজ করতেন।
মাধবদী থানা পুলিশ আটককৃত শরীফের বরাত দিয়ে জানান, গত ১৭ আগস্ট রাত ৮টার দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে থাপ্পড় দিলে তিনি টিউবওয়েলের উপর পড়ে অচেতন হয়ে যান। এরপর থেকে আর জ্ঞান ফেরেনি; কিন্তু স্বামী শরীফ স্ত্রীকে ডাক্তারের কাছে না নিয়ে ঘরের মেঝেতেই লুকিয়ে রাখেন। পরদিন ১৮ আগস্ট রাত ১০টার পর বাড়ির পাশের একটি কবরস্থানে একাই কাঁধে করে নিয়ে যান এবং সেখানে মাটিচাপা দিয়ে চলে আসেন। সবাইকে জানান তার স্ত্রী রাগ করে বাড়ি চলে গেছেন।
১৯ আগস্ট দুপুরের দিকে মাধবদী থানায় স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছে মর্মে তার শ্বশুরকে সঙ্গে নিয়ে আসেন এবং একটি সাধারণ ডায়েরি করতে চান। এ সময় তার কথাবার্তা সন্দেহজনক হলে পুলিশ জিডি না নিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করতে বলে। তিনি অভিযোগ দায়ের করে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। পরে পুলিশের সন্দেহ হলে পুলিশ শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে এসে জেরা করতে থাকলে একপর্যায়ে তিনি স্ত্রী হত্যার কথা স্বীকার করেন। একপর্যায়ে লাশ কোথায় মাটিচাপা দিয়েছেন সেই ঘটনারও বর্ণনা দেন।
মাধবদী থানার ওসি মো. কামাল হোসেন বলেন, স্ত্রী হত্যার দুই দিন পর থানায় এসে একটি সাধারণ ডায়েরি করতে চান স্বামী শরীফ মিয়া। এ সময় তার কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক হলে তাকে নজরে রাখি। একপর্যায়ে তাকে জেরা করলে তিনি স্ত্রী হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন এবং লাশ কোথায় মাটিচাপা দিয়ে রেখেছেন সেই ঘটনার বর্ণনা দেন।
তিনি আরও জানান, লাশ উত্তোলনের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
