আপন ভাইয়ের হাত-পা বিচ্ছিন্ন, ভাতিজাকে হত্যার পর জামিনে বেরিয়ে অন্যদের হত্যার হুমকি
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নিহত ইলিয়াস মোল্লার স্ত্রী লিপি বেগম।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কোলা ইউনিয়নের পূর্ব কোলাগ্রামের সিদ্দিক মোল্লার বিরুদ্ধে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে আপন বড় ভাই ইসহাক মোল্লার পা কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর কয়েক মাস পর ইসহাক মোল্লার ছেলে ও প্রবাসী ইলিয়াস মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগও রয়েছে সিদ্দিক মোল্লা, তার স্ত্রী ও দুই ছেলের বিরুদ্ধে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ইলিয়াস হত্যা মামলায় গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে একজন জামিনে বের হয়ে এখন মামলা তুলে নিতে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। নিরাপত্তাহীনতায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় জড়িতদের যথাযথ বিচার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নিহত ইলিয়াস মোল্লার স্ত্রী লিপি বেগম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার চাচা-শ্বশুর ইসহাক মোল্লার সঙ্গে স্থানীয় সিদ্দিক মোল্লা, তার স্ত্রী রওশন আরা এবং তাদের দুই ছেলে বিপ্লব মোল্লা ও বিদ্যুৎ মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ২০২৫ সালের মার্চে সিদ্দিক মোল্লার পরিবারের সদস্যরা ইসহাক মোল্লার ওপর হামলা করে তার একটি পা কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিপি বেগমের দাবি, ওই ঘটনায় মামলা করা হলেও পুলিশ মূল আসামিদের যথাযথভাবে গ্রেফতার করেনি। এমনকি আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে আসামিদের চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
তিনি বলেন, তার স্বামী ইলিয়াস মোল্লা দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসা করে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু একপর্যায়ে সিদ্দিক মোল্লার পরিবার তাকে হত্যার লক্ষ্যবস্তু করে।
লিপি বেগম বলেন, গত ১৯ জুন আমার স্বামী তার পঙ্গু চাচা ইসহাক মোল্লাকে হুইলচেয়ারে করে রাস্তায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি অটোরিকশায় করে সিদ্দিক মোল্লা, রওশন আরা, বিদ্যুৎ মোল্লা ও বিপ্লব মোল্লা সেখানে এসে ইলিয়াসকে পেছন থেকে রামদা দিয়ে কোপাতে শুরু করেন।
তার ভাষ্য, হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ইলিয়াসের হাতের রগ কেটে দেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে তাদেরও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
পরে স্থানীয়রা ইলিয়াস ও ইসহাক মোল্লাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ইলিয়াসকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হলে ২০ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
লিপি বেগম আরও বলেন, স্বামী হত্যার ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় মামলা করলে বিপ্লব মোল্লা, বিদ্যুৎ মোল্লা, সিদ্দিক মোল্লা ও রওশন আরাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে এবং গ্রেফতার আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে মাত্র এক মাসের মাথায় রওশন আরা জামিনে মুক্তি পান বলে জানান লিপি। এরপর থেকেই তিনি মামলা তুলে নিতে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। মামলা প্রত্যাহার না করলে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও একই কায়দায় হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন লিপি।
লিপি বেগম আরও অভিযোগ করেন, এর আগে ওই পরিবারের সদস্যরা এক গৃহকর্মীকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং আসিফ নামে আরেক যুবককে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তারা কাউকে ভয় পান না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভবিষ্যতে আরও হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা প্রকাশ করে লিপি বেগম ইলিয়াস হত্যা মামলায় পুলিশের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত ও চার্জশিট এবং জড়িতদের যথাযথ বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি হামলায় পা হারানো ইসহাক মোল্লাও উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জামিনে থাকা রওশন আরার মোবাইল ফোনে কল করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সামগ্রিক বিষয়ে জানতে সিরাজদিখান থানার ওসি মো. আলাউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নতুন এসেছি। মামলাগুলো বুঝে নেওয়ার পর বিষয়টি দেখব। কেউ হুমকি-ধমকির শিকার হলে থানায় অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

-6a992404c1535.jpg)
-6a9916fb18db5.jpg)