ভুয়া সনদে আসামির জামিন: আইনজীবী পুলিশসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে শিশু দেখিয়ে জাল জন্মসনদ ও কাগজ তৈরি করে জামিন নেওয়া, আদালতের অর্ডার শিটের আদেশ কাটাকাটি এবং নথি গায়েব করায় অপরাধে গাইবান্ধা জেলা বারের আইনজীবী, গোবিন্দগঞ্জ কোর্ট জিআরও ও মহুরিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধা শিশু আদালত-২ এর বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ এ আদেশ দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার আদেশটি গোবিন্দগঞ্জ থানায় পৌঁছেছে।
জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে গোবিন্দগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে হ্যাকারসহ বিভিন্ন মামলায় পলাশ রানা, সুমন মিয়া, শামীম চৌধুরী ও এনামুল হক নামের চারজনকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে তাদের আত্মীয়স্বজন আসামিদের কারামুক্ত করতে আইনজীবী শেফাউল ইসলামের কাছে পরামর্শ নেন। তার পরামর্শে ও বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে আইনজীবী শেফাউল ইসলাম এনামুল হক নামের এক বিবাহিত হ্যাকার যুবককে নাবালক ও শিশু প্রমাণ করতে জাল জন্মসনদ তৈরি করেন। তিনটি মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন করানোর অভিযোগ ওঠে জেলা বারের আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে।
শুধু তাই নয়, আইনজীবী শেফাউল ইসলাম আসামিদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে কোর্ট জিআরও, মহুরি আব্দুস সবুরের সহযোগিতা নিয়ে আদালতের নথি গায়েব ও আদেশ কাটাকাটির অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। ভুয়া কাগজ ও সাবালক আসামিদের নাবালক দেখিয়ে তাদের জামিন গ্রহণ করেন।
বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী সারোয়ার হোসেন, মোত্তালিব হোসেনসহ কয়েকজন আইনজীবী এই জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে জামিন বাতিলের আহ্বান জানান। জামিনের বিরোধিতা করায় বিষয়টি আদালত আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।
শিশু আদালত গাইবান্ধা-২ এর বিচারক বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তভার দেন গোবিন্দগঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম গালিব হাসানকে। তিনি গত ১৯ আগস্ট শিশু আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পান।
তিনি তার তদন্ত রিপোর্টে সুপারিশ করেন- যেহেতু অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, সেই কারণে মূল অভিযুক্ত আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের সনদ বাতিল, তার মুহুরি হাসান আলীর নিবন্ধনপত্র বাতিল এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে এমন ঘটনাকে দেশের সামগ্রিক বিচার বিভাগের জন্য কালো অধ্যায় বলে পর্যবেক্ষণ দেন আদালত।
তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর শিশু আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারীকে বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।
বুধবার এ আদেশ দেওয়া হলেও আদেশটি বৃহস্পতিবার দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ থানায় পৌঁছায়। পরে আজ গোবিন্দগঞ্জ থানায় তিন অভিযুক্ত আইনজীবী, মহুরি ও কোর্ট জিআরওর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রক্রিয়া শুরু করেন।
এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মোজাম্মেল হক জানান- আদেশটি পেয়েছি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

