কালিয়াকৈরে শিয়ালের কামড়ে শিশুসহ আহত ২৫
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
শিয়ালের কামড়ের ভয়ে লাঠি হাতে শিশুরা (বামে), শেয়াল (ডানে)। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বন ছেড়ে লোকালয়ে আসা শিয়ালের উপদ্রবে আতঙ্কে এলাকাবাসী। গত তিন দিনে শিয়ালের কামড়ে শিশুসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। ওই এলাকার মসজিদ ও বাজারে যেতে লোকজন লাঠি ব্যবহার করছেন। অপরদিকে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পাচ্ছে।
শিয়ালের কামড়ে আহতরা হলেন- আছিয়া (৩৫), দুখিল মাতবর (৬৫), দ্বীন ইসলাম (১২), মফিজ মাস্টার (৪০), শারমিন (৩৫), আলমাস (৩৮), আলী হোসেন (৩৫), মিম (৫), হরিদাসী (৬০) প্রমুখ।
আজ (রোববার) সকালে সরেজমিনে পামওয়েল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, আশপাশের দূরদূরান্ত থেকে যারা বাজারে আসছেন তাদের অনেকের হাতেই লাঠি। তাদের মধ্যে আতঙ্ক ভয়ের ছাপ লক্ষ্য করা গেছে। বনের ভেতর ও বাইরে শিয়াল ওতপেতে বসে থাকে। অনেক সময় দু-তিনটি শিয়াল একসঙ্গে চলাচল করে। মানুষ দেখলে দৌড়ে গিয়ে কামড় দেয়। পরে তাদের আর্তচিৎকারে লোকজন চলে আসলে শিয়াল ক্ষুব্ধ হয়ে কামড়াতে থাকে। পরে সবাই মিলে শিয়ালকে তাড়াতে হয়। অনেক সময় মানুষ পেলে কামড় দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায় শিয়াল।
কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের ধুলিগড়া, পামওয়েল বাজার, গন্দেকচালা এলাকায় গত তিন দিনে কমপক্ষে ২৫ জনকে শিয়ালে কামড়ে আহত করেছে। তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিয়াল অনেক গবাদিপশুকে কামড়িয়েছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।
এলাকার বাসিন্দা সালাম খলিফা, স্বপন শীল, আলী হোসেন জানান, এলাকায় বনের ভেতর ও বাইরে শিয়াল এসে মানুষ ও গরু-ছাগলকে কামড়িয়ে যাচ্ছে। শিশুরাও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এলাকার লোকজন একা চলাফেরা করতে পারছে না। এর দ্রুত সমাধান দরকার।
শিয়ালের কামড়ে আহত আলমাস হোসেন জানান, আমি গরু আনতে বাড়ির নিচে গেলে হঠাৎ করে দুটি শিয়াল আমাকে আক্রমণ করে এবং ১০ থেকে ১২টি কামড় দেয়। এ সময় আমার ডাক-চিৎকারে এলাকাবাসী এসে আমাকে উদ্ধার করে।
চাপাইর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার নুর নবী বলেন, যতই দিন বাড়ছে ততই শিয়ালের কামড়ে আহতের সংখ্যা বাড়ছে। আমরা আতঙ্ক ও ভয়ে আছি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দিদারুল আহসান জানান, জঙ্গলে যখনই খাবারের সংকট হয় তখনই শিয়াল খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসে এবং মানুষ, গরু-ছাগল কামড়ে আহত করে। বন্যপ্রাণী আইনে যেহেতু শিয়াল নিধন করা যাবে না সেহেতু রেসকিউ করে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা যেতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল হোসাইন বলেন, বিষয়টি শুনেছি, পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

