সরকারি বিদ্যালয়ের পুকুর ভরাটের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
টেকেরহাট (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
বিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ জমির পুকুরটি গত এক সপ্তাহ ধরে বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ৪৬নং চরনাচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন একটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফায়েকুজ্জামান বাবুলের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ জমির পুকুরটি গত এক সপ্তাহ ধরে বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুমন মিয়ার যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের কোলঘেঁষে থাকা পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে পুকুরটির পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। পুকুরটি ভরাট করে খেলার মাঠ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ায় পরিবেশ ও বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি একটি প্রকল্পের মাধ্যমে পুকুরটি ভরাটের উদ্যোগ নিয়েছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান। তবে প্রকল্পটি অনুমোদন না হওয়ায় পরে ব্যক্তিগত অর্থে পুকুরটি ভরাট করা হয়। ভবিষ্যতে সরকারি অর্থের মাধ্যমে ব্যয় সমন্বয়ের পাঁয়তারা করা হতে পারে বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় পরিবেশভিত্তিক সংগঠন ‘ফ্রেন্ডস অব নেচারের’ নির্বাহী পরিচালক রাজন মাহমুদ বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পুকুর ও জলাশয় সংরক্ষণ করা জরুরি। কোনো পুকুর ভরাটের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও আইনগত বিষয়গুলো নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভরাট করা পুকুরটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ের সম্পত্তি এভাবে ভরাট করার বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি থাকা প্রয়োজন। পুকুর ভরাটের পেছনে কোনো অনিয়ম বা অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা দরকার। তিনি ভরাট করা অংশের বালু অপসারণ করে পুকুরটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফায়েকুজ্জামান বাবুল বলেন, সরকারি প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। জনস্বার্থে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আমি বিদ্যালয়ের পুকুরটি ভরাট করেছি। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি জানান, পুকুরটি ভরাট করে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সম্প্রসারণ করা হবে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুমন মিয়া বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানই পুকুরটি ভরাট করেছেন। তার কাছে পুকুর ভরাটের কোনো অনুমতিপত্র নেই। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর জন্য পুকুরটি ভরাট করে খেলার মাঠ সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদারীপুরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফজলে এলাহী বলেন, কোনো শিক্ষক ইচ্ছা করলেই বিদ্যালয়ের পুকুর ভরাট করতে পারেন না। বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের মাদারীপুরের উপপরিচালক জেসমিন আক্তার বানু বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান কোনো অবস্থাতেই বিদ্যালয়ের পুকুর ভরাট করতে পারেন না। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

-6a9d7d587493c.jpg)