Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

বেড়া ভেঙে ১৫০ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকরা

Icon

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

বেড়া ভেঙে ১৫০ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকরা

রৌমারীতে সাটার ও টিনের বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাচ্ছেন। ছবি: যুগান্তর

কুড়িগ্রামের রৌমারীর একটি ডিলার পয়েন্টে হট্টগোল করে সাটার ও টিনের বেড়া ভেঙে ১৫০ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অস্বীকার করছে স্থানীয় প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ঘটনাস্থলে টহল দিচ্ছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বন্দবের ইউনিয়নের মহিলা কলেজ মোড়ে মিতা হাসান ট্রেডার্স গুদাম ঘরে এ ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বন্দবের ইউনিয়নের মহিলা কলেজ মোড়ে মিতা হাসান ট্রেডার্স গুদাম ঘরের সামনে সোমবার মধ্যরাত থেকে কৃষকরা সারের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে। সকাল ৯টার দিকে ডিলার মতিউর রহমান কৃষকদের জানান, পুলিশ এনে সার বিতরণ করা হবে। এরপর প্রায় ২ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও কেউ না আসায় বেলা ১১টার দিকে উত্তেজিত কৃষকরা গুদাম ঘরের সাটার ও টিনের বেড়া ভেঙে প্রায় ১৫০টি সারের বস্তা নিয়ে যায়, যা মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। 

মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজের সার ডিলার মো. মতিউর রহমান বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সার বিতরণ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে ইউএনওর কাছে যাওয়া হয়। এরই মধ্যে ধৈর্যহারা কৃষকেরা বেলা ১১টার দিকে গোডাউন থেকে আনুমানিক দেড় শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। ঠিক কত বস্তা সার নেওয়া হয়েছে, তা দিন শেষে হিসাব করে বলা যাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম বসুনিয়া জানান, সার লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবে বিতরণ করা হচ্ছে। ফেসবুকে সার লুটের যেসব নিউজ ঘুরছে তা সঠিক নয়। কৃষকরা ধৈর্য ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে সার নিলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে খোলাবাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। এতে সার নিয়ে ছড়ানো গুজবও দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

রৌমারী সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার রাসেল কবির জানান, সার লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অনেক ভ্যান, রিকশাচালক ও কৃষক নয় এমন লোকজন সার নিতে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তারা সার সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রির পাঁয়তারা করছেন বলেও তিনি জানান।

রৌমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জানান, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সংকট সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। আমরা তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুল হাসান বলেন, আমি নিজেই বিভিন্ন সার ডিলার পয়েন্টে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম