নড়াইলে মাদ্রাসাছাত্রকে নিপীড়নের দায়ে শিক্ষকের যাবজ্জীবন
Advertisement
নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
সাজাপ্রাপ্ত মেরাজ আলী।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নড়াইল সদর উপজেলার একটি মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের অভিযোগে মেরাজ আলী (২৪) নামে এক শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এ রায় ঘোষণা করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মেরাজ আলী চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানার কালিয়া বাকরী এলাকার আমানুল্লাহ হকের ছেলে। ঘটনার সময় তিনি নড়াইলের ওই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন।
মামলার এজাহারে করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ জুলাই ভুক্তভোগী শিশুটির মা মাদ্রাসায় খাবার দিতে যান। এ সময় শিশুটি তার মাকে জানায়, শিক্ষক মেরাজ গত দুই মাসে একাধিকবার তাকে নিপীড়ন করেছেন। সর্বশেষ ১০ ও ১১ জুলাই রাতেও তাকে নিপীড়ন করা হয়। বিষয়টি পরিবারকে জানাতে শিশুটিকে নিষেধ করেছিলেন শিক্ষক মেরাজ—এমন অভিযোগও করা হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ওইদিন সন্ধ্যায় মাদ্রাসা থেকে পালানোর চেষ্টা করেন মেরাজ আলী। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
পরে ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় মেরাজ আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।

