৫ মামলায় যুবদল নেতার গ্রেফতারি পরোয়ানা, তিনি ঘুরছেন পুলিশের সামনেই
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
শাহীন আলম। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে পাঁচ মামলায় আদালতে সাজা হয়েছে। ঋণ পরিশোধ না করা এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে। এরপরও পুলিশের সামনে প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই যুবদল নেতা।
অভিযোগ রয়েছে, নেতাকর্মীদের নিয়ে নিয়মিত নিজস্ব কার্যালয়ে বসছেন শাহীন। এরই মধ্যে গত ৪ সেপ্টেম্বর মোহনপুর থানার ওসি মিজানুর রহমানের পাশেই বিএনপির দলীয় কর্মসূচিতে তাকে দেখা গেছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপটে পুলিশ শাহীন আলমকে গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
শাহীনের বিরুদ্ধে থাকা মামলার নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঋণ পরিশোধ না করায় ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে মামলা করে। রাজশাহীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর একটি মামলায় (মামলা নম্বর ২৩৭/১৯) শাহীন আলমকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ২১ লাখ ৮৬ হাজার ২৪১ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের আরেকটি মামলায় (মামলা নম্বর ২৯৮/১৮) শাহীনকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জেলা যুগ্ম জজ প্রথম আদালতের আরেকটি মামলায় (মামলা নম্বর ৮১৮/২০) শাহীন আলমের ছয় মাসের কারাদণ্ড হয়েছে। ওই মামলায় তাকে ৫ লাখ ৮০ হাজার ৩৪১ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত-৪-এর একটি মামলায় (মামলা নম্বর ৮০৫/২০) শাহীন আলমকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ২ লাখ ৩১ হাজার ৩৮৬ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মোহনপুর থানায় দায়ের করা আরেকটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তার দুই বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর মোহনপুর থানায় মামলাটি করা হয়। মামলা নম্বর ৩/১৭৮।
ইসলামী ব্যাংকের কেশরহাট শাখার ব্যবস্থাপক আবু বক্কর বলেন, এক বছরেরও বেশি সময় আগে মামলাগুলোর রায় হয়েছে। আদালত সাজা পরোয়ানাও জারি করেছেন। আমরা শাহীন আলমকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশকে বারবার তাগাদা দিলেও গ্রেফতার করছে না। আমরা কিছুটা হতাশ। পুলিশ রহস্যজনক কারণে আসামিকে গ্রেফতার করছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও নানা তদবিরে যুবদল নেতা শাহীন আলম মাঝেমধ্যেই মোহনপুর থানায় যান। ওসির টেবিলে বসে আড্ডা দেন, চা পান করেন। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে না। এমনকি শাহীন প্রকাশ্যেই দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এবং নিজস্ব রাজনৈতিক কার্যালয়ে নিয়মিত বসছেন। অথচ পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানতে চাইলে ওসি মিজানুর রহমান বলেন, আমি কিছুদিন আগে থানায় যোগদান করেছি। শাহীন প্রকাশ্যে ঘুরছে, এটা সঠিক না। আমরা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
এদিকে ওসি গ্রেফতারচেষ্টার দাবি করলেও গত ৪ সেপ্টেম্বর কেশরহাট পৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে পাশাপাশি ওসি মিজানুর রহমান ও যুবদল নেতা শাহীন আলমকে দেখা গেছে। ওসি অতিথির কাতারে সাদাপোশাকে মঞ্চে বসেছিলেন। আর তার সামনেই দাঁড়িয়েছিলেন শাহীন আলম। এমন একটি ছবিও পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মিজানুর রহমান বলেন, আমি তখন শাহীন আলমকে চিনতামই না। পরে শুনেছি। তবে তাকে গ্রেফতারের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য যুবদল নেতা শাহীন আলমের সঙ্গে বেশ কয়েকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত ৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক যুগান্তরে ‘মোহনপুর দলীয় অনুষ্ঠানে অতিথির আসনে ওসি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদের সঙ্গে প্রকাশিত ছবিতে ওসির সামনেই যুবদল নেতা শাহীনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সংবাদ ও ছবি প্রকাশের পর বিভিন্ন মহলে তোলপাড় শুরু হলেও পুলিশ এখনো শাহীনকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

-6aa10dd53df6e.jpg)