লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত এশামনির জীবন অনিশ্চয়তায়
Advertisement
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
একটু হাঁটলেই শ্বাসকষ্টে হাঁপিয়ে ওঠে এশামনি। চার দেয়ালের মধ্যে আটকে পড়েছে তার জীবন।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুড়িগ্রামের ১১ বছরের শিশু এশামনি জটিল লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। চার দেয়ালের মধ্যে আটকে পড়েছে তার জীবন। একটু হাঁটলেই শ্বাসকষ্টে হাঁপিয়ে ওঠে। ঠিকমতো খেতেও পারে না। জীবন বাঁচিয়ে রাখতে নিয়মিত উচ্চমূল্যের অ্যালবুমিন ইনজেকশন বা ইনফিউশন দেওয়া হচ্ছে তাকে। গত চার মাস ধরে এমন অবস্থায় দিন কাটছে তার। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, উন্নত চিকিৎসা ও লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫০ থেকে ৭০ লাখ টাকা।
কুড়িগ্রাম পৌর শহরের রেজিস্ট্রিপাড়ায় শিশু নিকেতন স্কুলের দক্ষিণ পাশের দেয়ালসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে থাকেন ইব্রাহিম। বড় মেয়ে এশামনি পিটিআই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছোট মেয়ে ইফতি আক্তারের বয়স পাঁচ বছর।
এশামনির বাবা ইব্রাহিম আহম্মেদ কাঁচামালের ব্যবসা করেন। তার পক্ষে মেয়ের বর্তমান চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্থের অভাবে মেয়েটির চিকিৎসা নিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি।
এশামনির মা মারুফা ইয়াসমিন জানান, চার মাস আগে স্কুল থেকে শিক্ষকরা পিয়ন পাঠিয়ে জানান, ক্লাসে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেছে এশামনি। দ্রুত তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে ভর্তি করা হয়নি। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর এশামনির পা, মুখ, মাথা ও পেটে পানি জমে ফুলে যায়। সে ঠিকমতো কথা বলতেও পারছিল না। টানা ১৬ দিন হাসপাতালে থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, সে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত।
মারুফা ইয়াসমিন বলেন, মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে তার স্বামী কাঁচামালের ব্যবসার জন্য নেওয়া একটি দোকানও ছেড়ে দিয়েছেন। সেই টাকা দিয়ে এখন পর্যন্ত চিকিৎসায় প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। একটি অ্যালবুমিন ইনজেকশন দিতে প্রায় ১০ হাজার টাকা লাগে বলেও জানান তিনি।
এশামনির বাবা ইব্রাহিম বলেন, মেয়ের অসুস্থতা বাড়লে উচ্চমূল্যের অ্যালবুমিন ইনজেকশন দিতে হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ভারত বা সিঙ্গাপুরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে হবে। ভারতের হায়দরাবাদে লিভার প্রতিস্থাপন করানো হলে মেয়েটি সুস্থ জীবনে ফিরতে পারে বলে চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিয়েছেন।
ইব্রাহিম বলেন, আমি গরিব কাঁচামালের দোকানদার। জমিজমা নেই, বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি। এখন নিজেরা খাব, নাকি মেয়ের চিকিৎসা করাব—কিছুই বুঝতে পারছি না।
এশামনির দাদি জানান, ছোটবেলা থেকেই তার নাতনি অসুস্থ। তবে চার মাস আগে জটিল রোগটির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়। নিয়মিত পেট, পা, মুখ ও মাথায় পানি জমে যায়। মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও পাতলা পায়খানার সমস্যায় ভোগে সে। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারে না।
এশামনি জানায়, খেতে গেলে খারাপ লাগে। হাত-পা ব্যথা করে, বমি আসে এবং শরীর ভারী লাগে। বসা থেকে উঠতেও কষ্ট হয়। অল্প হাঁটলেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং হাঁপিয়ে যায়।
এশামনির দাদা বলেন, পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি-বেসরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে মেয়েটি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে আশা করছেন তারা।
চিকিৎসক ও সাবেক সিভিল সার্জন ডা. এস এম আমিনুল ইসলাম বলেন, লিভার সিরোসিস অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল রোগ। এশামনিকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের হায়দরাবাদের কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। লিভার প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তাকে সুস্থ করে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য চিকিৎসাসহ সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে।


