তিন নদীর ভাঙনে বিপর্যস্ত বাবুগঞ্জ, হুমকিতে ঘরবাড়ি-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
Advertisement
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০০ পিএম
সুগন্ধা নদীর মাত্র ১০০ ফুট দূরে থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বরিশালের বাবুগঞ্জে সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে পাকা সড়ক, ইটের সলিং, কাঁচা রাস্তা, বেড়িবাঁধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, কবরস্থান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ দুই শতাধিক বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সম্প্রতি ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করায় নদীতীরবর্তী পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত এক বছরে সুগন্ধা নদীর ভাঙনে দুই শতাধিক স্থাপনা নদীতে হারিয়ে গেছে। বারবার ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিতে নিতে নদীতীরের বাসিন্দারা এখন ক্লান্ত। সানি-কেদারপুর থেকে স্টিমারঘাট সড়কের বিভিন্ন অংশও ভেঙে গেছে। এছাড়া অসংখ্য ইটের রাস্তা, কাঁচা রাস্তা, কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, মসজিদ ও কবরস্থান নদীতে বিলীন হয়েছে।
চলতি বছরের শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে সুগন্ধা নদীর তীরবর্তী কেদারপুর ইউনিয়নের সানি কেদারপুর, কেদারপুর খেয়াঘাট, পূর্ব ভূতেরদিয়া মোল্লারহাট, পশ্চিম ভূতেরদিয়া; রহমতপুর ইউনিয়নের রাজগুরু, লোহালিয়া, ক্ষুদ্রকাঠি, দোয়ারিকা, মানিককাঠি, ছোট মীরগঞ্জ; দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর বাজার, রাকুদিয়া, উত্তর বাহেরচর, দক্ষিণ রাকুদিয়া, ইদেলকাঠি, চর সাধুকাঠি এবং চাঁদপাশা ইউনিয়নের রফিয়াদি, ময়দানের হাট ও সায়োরকোলচর এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ইতোমধ্যে মীরগঞ্জ ফেরিঘাটসংলগ্ন রহমতপুর ও চাঁদপাশা ইউনিয়নের সংযোগ সড়কের একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভূতেরদিয়া মোল্লারহাট বাজার, সানি কেদারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সোনার বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ সুগন্ধা নদীর মাত্র ১০০ ফুট দূরে থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় এক কিলোমিটার ইটের সলিং রাস্তা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীগুলো বালুমহাল হিসেবে ইজারা না দেওয়া হলেও প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে।
সানি কেদারপুর গ্রামের মফিজ উদ্দিন (৮০) বলেন, সুগন্ধা নদীতে ভাঙার আর কিছুই বাকি নেই। আমার স্বজনদের কবরও নিয়ে গেছে। এখন আমাকেও নিয়ে যাক। বাপ-দাদার ধানি জমি ও বড় ঘর ছিল। এই ‘রাক্ষসী নদী’ সব কেড়ে নিয়েছে। এখন আমার কিছুই নেই।
লোহালিয়া গ্রামের শামসের আলী বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদীতে তাদের বাপ-দাদার জমি বিলীন হয়ে গেছে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে নতুন বাড়ি করলেও সেটিও এখন ভাঙনের মুখে। দীর্ঘ ২০ বছরেও ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
রহমতপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে তাকে নিজের ঘর চারবার সরাতে হয়েছে।
রহমতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সুমন শিকদার বলেন, সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার জানানো হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, মীরগঞ্জ ফেরিঘাটের বেড়িবাঁধ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ নদীতে ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

-6aa2cbf38a546.jpg)