Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

গ্রাহকের জমা টাকা সরিয়ে রাখতেন ব্যাংক কর্মকর্তা, অতঃপর...

Advertisement

Icon

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

গ্রাহকের জমা টাকা সরিয়ে রাখতেন ব্যাংক কর্মকর্তা, অতঃপর...

ক্যাশ অফিসার ফৌজিয়া হক। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সোনালী ব্যাংক ঘাঘর শাখার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের টাকা সরিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা জানাজানি হলে ব্যাংকসহ এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, মো. আলাউদ্দিন নামে এক গ্রাহক হজে যাওয়ার জন্য টাকা জমা দিতে সোনালী ব্যাংক ঘাঘর শাখায় যান। ব্যাংকে যাওয়ার পর অফিসার ক্যাশ ফৌজিয়া হকের কাছে তিনি ৫ লাখ টাকা দেন।

টাকা দেওয়ার পর ৪ হাজার ৫০০ টাকা কম আছে বলে গ্রাহক আলাউদ্দিনকে জানান ক্যাশ অফিসার ফৌজিয়া হক। এ সময় আলাউদ্দিন পুরো ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে ব্যাংকের ম্যানেজার ফয়সাল হোসেন খানের কাছে গ্রাহক আলাউদ্দিন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে চান।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, গ্রাহক আলাউদ্দিন পুরো ৫ লাখ টাকাই ক্যাশ কাউন্টারে দিয়েছেন। ক্যাশ অফিসার ফৌজিয়া হক ৫০০ টাকার ৯টি নোট অন্যত্র সরিয়ে রাখেন।
গ্রাহক আলাউদ্দিন বলেন, হজে যাওয়ার জন্য সোনালী ব্যাংক ঘাঘর শাখায় গিয়ে আমি ক্যাশ অফিসার ফৌজিয়া হকের কাছে ৫ লাখ টাকা দেই। কিছুক্ষণ পরে ফৌজিয়া হক জানান, ৪ হাজার ৫০০ টাকা কম আছে। আমি ম্যানেজারের কাছে গিয়ে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে চাই। এর আগেও ক্যাশ অফিসার ফৌজিয়া হক আমার ২ হাজার টাকা সরিয়ে ফেলেছিলেন। আমি এই অফিসারের শাস্তি দাবি করছি।

এদিকে একই ধরনের অভিযোগ এনে উপজেলার পিঞ্জুরী গ্রামের শিক্ষক মিরাজ তালুকদার বলেন, গত বুধবার আমার স্ত্রী সোনালী ব্যাংক ঘাঘর শাখা থেকে ৪ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এই ৪ লাখ টাকায় ১ হাজার টাকা কম হলে আমরা ক্যাশ অফিসার ফৌজিয়াকে জানাই। কিন্তু তিনি আমাদের ১ হাজার টাকা দেননি।

অপূর্ব বাইন নামে এক যুবক বলেন, গত বুধবার আমি ও আমার বোন সোনালী ব্যাংকে দেড় লাখ টাকা জমা দিতে যাই। টাকা ক্যাশ কাউন্টারে দেওয়ার পর ফৌজিয়া হক বলেন, এখানে ২ হাজার টাকা কম। আমরা বাড়ি থেকে একাধিকবার টাকা গুনে ব্যাংকে গিয়েছি। আমাদের টাকা কম হওয়ার কথা নয়। আমার ধারণা- ফৌজিয়া হক টাকা সরিয়ে রেখেছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ফৌজিয়া হকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ব্যাংকে অনেক ভিড় থাকায় ভুলবশত এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। আমি আলাউদ্দিনের ৪ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত দিয়েছি।

সোনালী ব্যাংক ঘাঘর শাখার ম্যানেজার ফয়সাল হোসেন খান বলেন, গ্রাহক আলাউদ্দিনের সঙ্গে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

বাকিদের বিষয়ে জানেন না বলে জানিয়েছেন এই ব্যাংক কর্মকর্তা।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম