সেতুর অভাবে ৩ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত, কয়েক গ্রামের মানুষের চরম ভোগান্তি
Advertisement
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে একটি সেতুর অভাবে কয়েক গ্রামের মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। এতে নারী-শিশু ও শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৬ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট্ট একটি নৌকায় নদী পারাপার হয়ে থাকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বামনহাটা পূর্ব, বেতুয়া, বেতুয়া-পলশিয়াসহ কয়েকটি গ্রামের নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও শিশুসহ প্রায় কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন উপজেলা শহর, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন হাট-বাজারে যাতায়াত করে।
যমুনা থেকে নেমে আসা লৌহজং নদীর রেলস্টেশনের পশ্চিম পাশে পশ্চিম ভূঞাপুর ও বামনহাটার পূর্ব অংশে দুই পাড়ে ২টি সংযোগ সড়ক থাকলেও নেই একটি সংযোগ সেতু। এই সংযোগ সেতুটির অভাবে স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেউ কেউ রেলসেতু দিয়ে যাতায়াত করে। যা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ। আবার সাধারণ জনগণ ৩ কিলোমিটার ঘুরে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে যাতায়াত করছে।
বামনহাটা গ্রামের ইমরান মিয়া জানান, ছোট্ট এই নদীটির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ উৎপাদিত কৃষিপণ্য হাট-বাজারে পরিবহণ খুব কষ্টসাধ্য এবং ব্যয়বহুল।
বেতুয়া গ্রামের আরশেদ আলী বলেন, স্কুলগামী ছোট্ট শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেলসেতু দিয়ে পার হয়। একটি সেতু হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে স্কুলে যেতে পারত।
ব্যবসায়ী সোহেল খান বলেন, বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে পারলেও সমস্যা তখন বেশি হয়, যখন নৌকাও চালানো যায় না, কাপড় ভিজিয়ে যাতায়াত করতে হয়। রাতে বাড়িতে ফিরে আসা সবচেয়ে বেশি কষ্টের।
বামনহাটা গ্রামের চাকরিজীবী আশরাফুন্নাহার জানান, পশ্চিম ভূঞাপুরের রাজ্জাক কাউন্সিলরের বাড়ির মোড়ের উত্তরে লৌহজং নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। এই এলাকার জনসাধারণকে একটি সেতুর অভাবে ৩ কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা শহর ও হাট-বাজারে যেতে হয়। অফিসে যাতায়াতও কষ্টকর।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান জানান, পৌর এলাকায় অবস্থিত আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। এখানে ব্রিজটি অতীব জরুরি। স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ব্রিজটি যাতে দ্রুত নির্মাণ করা হয়, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

-6aa7a2fe2976b.jpg)