পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যুবলীগ নেতার দাপট, এজিএমের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, পটুয়াখালী
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পটুয়াখালীর দশমিনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব-জোনাল অফিসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের অবাধ যাতায়াত এবং দাপ্তরিক কাজে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অফিসটির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মো. জাকির হোসেনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সরবরাহে ভোগান্তি, গ্রাহকের বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে বিল তৈরি এবং মিটার সংযোগে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তিনি যথাযথ তদারকি করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দশমিনা সাব-জোনাল অফিসটি আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের আনাগোনার জায়গায় পরিণত হয়েছে। এমনকি অফিসের দাপ্তরিক নথিপত্র ঘাঁটাঘাঁটি ও চেয়ার-টেবিলে বসে দালালির কাজ করার অভিযোগও উঠেছে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এজিএমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাকরিতে যোগ দেওয়া মো. জাকির হোসেন ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দশমিনা সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকেই তার অফিসে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের আনাগোনা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গত ২৭ আগস্ট সরেজমিন দেখা যায়, বহরমপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. নাসির ওই অফিসের দাপ্তরিক নথিপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করছেন। তাকে অফিসের চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ করতেও দেখা যায়। এ সময় অফিসের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী তাকে বাধা দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার ভিডিও যুগান্তরের কাছে সংরক্ষিত আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মো. নাসির নিয়মিত অফিসে যাতায়াত করেন। তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি টাকা নিয়ে মিটার সংযোগ পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তার মতো আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের আরও কয়েকজন নেতাকর্মী প্রায়ই অফিসে যাতায়াত করেন। এতে সাধারণ গ্রাহকের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে দশমিনায় তীব্র গরমের মধ্যে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা, গ্রাহকের বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে বিল তৈরি এবং অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় গ্রাহকদের দাবি, এসব বিষয়ে অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। ফলে বিদ্যুৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জুয়েল আমিন প্যাদা যুগান্তরকে বলেন, বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে ক্ষেপিয়ে তোলা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এসব লোক ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া। শুধু পল্লী বিদ্যুৎ নয়, দশমিনার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আওয়ামী লীগের লোকজনের আনাগোনা রয়েছে। যুবদলের কোনো নেতাকর্মী একটি অফিসের নথিপত্রে হাত দিতে পারে না। তাহলে যুবলীগের লোকজন কিভাবে অফিসের নথিপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করেন?
অভিযোগের বিষয়ে দশমিনা সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. জাকির হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি তার বিরুদ্ধে উঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কিছু ইন্ট্রিকশিয়ান আছে, তারা কে কোন দল করেন সেটা আমার জানার বিষয় না। এখানে কোনো দালাল নেই। লোডশেডিং যতটা দেওয়ার কথা ততটুকুই দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ নেতার বাসা ভাড়া নেওয়া আমি আসার আগেই- এখানে আমার কী করার?
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ আবুল কাশেম যুগান্তরকে বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
