Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

সাজেকে কী ঘটেছে, কী হচ্ছে?

Advertisement

Icon

সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙামাটি

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম

সাজেকে কী ঘটেছে, কী হচ্ছে?

ছবি: যুগান্তর

Advertisement

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে সড়ক অবরোধ ঘিরে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত রয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সেখানে অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষের পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে আটকা পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপত্তা দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। 

পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে একটি সংগঠন। ফলে পাহাড়ের পর্যটন, জনজীবন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

যেভাবে উত্তপ্ত হলো সাজেক: পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু করে। সাজেক থেকে একটি চিহ্নিত গোষ্ঠীর সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দেওয়া, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ তিন দফা দাবিতে এ কর্মসূচি দেওয়া হয়। অবরোধের কারণে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আটকা পড়েন সেখানে বেড়াতে যাওয়া বিপুলসংখ্যক পর্যটক।

এদিন সকালের দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পর্যটকদের সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির দিকে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু গঙ্গারাম উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে গাড়িবহর বাধার মুখে পড়ে। ব্যারিকেড সরিয়ে পর্যটকদের এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং অবরোধকারীদের সঙ্গে উত্তেজনার একপর্যায়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় প্রায় ২ হাজার ৯৩৩ পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে খাগড়াছড়ি পাঠানো হয়েছে।

অবরোধের নেপথ্যে কী 

অবরোধকারী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় জনসংহতি সমিতির (সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যদের উপস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের দাবি, এসব সশস্ত্র সদস্যকে সরিয়ে দিয়ে স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে জেএসএস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য, সাজেককে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। 

তাদের দলে কোথাও কোনো সশস্ত্র সদস্য বা কার্যক্রম নেই বলে দাবি করে সংগঠনটির সহতথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, তারা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। ইউপিডিএফই পাহাড়ে সন্ত্রাসী রাজত্ব বিস্তার করছে। 

এদিকে অবরোধকারী সংগঠনগুলোকে ইউপিডিএফ-ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিভিন্ন মহল থেকে উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারা গুলি চালিয়েছে এবং সহিংসতা কীভাবে শুরু হয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বন্ধ সাজেক পর্যটনকেন্দ্র, বাড়ছে উদ্বেগ 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এতে পর্যটননির্ভর রিসোর্ট, কটেজ, পরিবহণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়েছে। শুধু পর্যটন নয়, সড়ক অবরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণ এবং জুমের ফসল বাজারজাতকরণও ব্যাহত হচ্ছে। 

তবে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

২৪ অক্টোবর নতুন কর্মসূচি

সাজেকে অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগে হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ শনিবার রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় বিভিন্ন মহলের দাবি, সাজেকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অবরোধ প্রত্যাহার, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সংঘর্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর সংলাপ জরুরি। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অভিযোগ-পালটা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা না গেলে সাজেকের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।

বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর জনশূন্য গঙ্গারাম, শুক্রবারও চলে অবরোধ 

বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর সাজেক গঙ্গারাম এলাকায় জনশূন্যতা দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে বাড়িঘর, দোকানপাট ছেড়ে সাধারণ মানুষজন প্রায় নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন বলে জানান সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা। 

তবে শুক্রবারও সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে বলে দাবি করে তিনি জানান, এদিন সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার সাজেক সড়কে অবরোধের ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

পালটাপালটি বক্তব্য 

বৃহস্পতিবার সকালে অবরোধের কারণে আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপত্তা দিয়ে খাগড়াছড়িতে সরিয়ে নেওয়ার সময় গঙ্গারাম উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় সেনাবাহিনীর দাবি, এতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালালে আত্মরক্ষায় পালটা গুলি চালানো হয়। তবে ইউপিডিএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীই একতরফা গুলি চালিয়েছে।

এছাড়া অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে বিবৃতি দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনও নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে পর্যটন কার্যক্রম ও স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা এবং পণ্য পরিবহণ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে 

রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব বলেন, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদারের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং যৌথবাহিনীর (পুলিশ ও সেনাবাহিনী) অভিযান চলছে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

সাজেকের অস্থিরতা নিয়ে রাঙামাটির পুলিশ সুপারের বার্তা

সাজেকের অস্থিরতা নিয়ে রাঙামাটির পুলিশ সুপারের বার্তা

সাজেকে হামলার প্রতিবাদে ২ জেলায় সড়ক অবরোধের ডাক

সাজেকে হামলার প্রতিবাদে ২ জেলায় সড়ক অবরোধের ডাক

সাজেকে পর্যটক-সেনা-পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ, উদ্ধার ৩ হাজার পর্যটক

সাজেকে পর্যটক-সেনা-পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ, উদ্ধার ৩ হাজার পর্যটক

সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

সাজেকে অবরোধ ঘিরে উত্তেজনা, ধাওয়া-পালটা ধাওয়া

সাজেকে অবরোধ ঘিরে উত্তেজনা, ধাওয়া-পালটা ধাওয়া

পর্যটকদের সাজেক ছাড়ার নির্দেশ

পর্যটকদের সাজেক ছাড়ার নির্দেশ

আরও পড়ুন

দেড় লাখ টাকাসহ উপসহকারী প্রকৌশলী আটক, অতঃপর...

দেড় লাখ টাকাসহ উপসহকারী প্রকৌশলী আটক, অতঃপর...

টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণ: মা-বাবার পর প্রাণ গেল মেয়ের

টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণ: মা-বাবার পর প্রাণ গেল মেয়ের

সাজেকে কী ঘটেছে, কী হচ্ছে?

সাজেকে কী ঘটেছে, কী হচ্ছে?

‘ঋণ না দেওয়ায়’ ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা যুবকের

‘ঋণ না দেওয়ায়’ ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টা যুবকের

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম