বিদ্যালয়ের জমি লিজের ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিএনপির দুই নেতার পকেটে!
Advertisement
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০০ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নাটোরের সিংড়া উপজেলার বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি (লিজ) ইজারার তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযুক্তরা হলেন, সুকাশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সোবহান ওরফে নয়ন ও ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন।
এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৪ ও ২৮ জুন উপজেলার বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ একর জমি প্রকাশ্যে মাইকিং করে (লিজ) ইজারা দেওয়ার ব্যবস্থা করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে বেলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫ বিঘা জমি দুই লাখ ৯৪ হাজার ৩৭৫ টাকা এবং বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাড়ে ২১ বিঘা জমি তিন লাখ ৭৭ হাজার ২৫০ টাকায় আগামী এক বছরের জন্য লিজ নেন গ্রামের কৃষকরা। কিন্তু উপস্থিত জনতার সামনেই গ্রামের উন্নয়নের নামে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দুই লাখ ও উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন আব্দুস সোবহান ওরফে নয়ন ও আজমল হোসেন।
এ বিষয়ে সুকাশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আখতারুজ্জামান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, গ্রামের উন্নয়নের কথা বলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টাকা পকেটে তোলা দুঃখজনক ঘটনা। এতে গ্রামের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় আরেক বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান মন্তব্য করেন, একসময় যারা আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি করতেন, এখন তারাই নয়া বিএনপি সেজে এসব কার্যক্রমে জড়িয়ে বিএনপির দুর্নাম করছেন।
বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। আর বেলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, প্রতিষ্ঠানের আবাদযোগ্য জমিজমা প্রকাশ্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি রসিদমূলে যে টাকা পেয়েছেন, সেই টাকার হিসাব রেখেছেন। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দুই প্রতিষ্ঠানের অন্তত ১০ জন শিক্ষক ও কর্মচারী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমিজমা লিজের টাকা ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়ে থাকে। কিন্তু এই প্রথম প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠানের টাকা জোর করে নেতারা পকেটে নিয়ে গেলেন, যেটা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন শিক্ষকরা।
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুস সোবহান ওরফে নয়ন টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এই টাকা গ্রামের লোকজনের মধ্যেই আছে, পারলে আপনি নিউজ করেন।
অপর বিএনপি নেতা আজমল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের কিছু টাকা গ্রামের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকল্পে কাজে লাগানো দোষের কিছু দেখছি না। তবে তার কাছে কোনো টাকা-পয়সা নেই।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, ওই দুই বিদ্যালয়ের জমি লিজের ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা উদ্ধারে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

-6aac0da37db31.jpg)