ভুয়া ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণকালে গ্রেফতার ৫
Advertisement
ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
ব্যবসায়ীকে অপহরণকালে গ্রেফতারকৃতরা। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সদস্য পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়ায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর বাইপাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার দুপুরে গ্রেফতারদের আদালতে পাঠায় পুলিশ।
গ্রেফতাররা হলেন—ময়মনসিংহ নগরীর সুতিয়াখালী এলাকার আল-আমীন (২০), বাগমারা এলাকার দিদারুল ইসলাম (৫৮), সুতিয়াখালী এলাকার পিয়াস মিয়া (২২), শেরপুরের জেলার নকলা উপজেলার চরভাবনা এলাকার ফারুক আহম্মেদ (৩৫) ও দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ছিট আলোকদী এলাকার শামীম ইসলাম (৩৫)।
এদের মধ্যে শামীম ইসলাম ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর ২০২১ সালে দুমাসের বার্ষিক ছুটিতে এসে আর ইউনিটে ফেরেননি। ডিবি পুলিশের পরিচয়ধারী সিটি করপোরেশনে মাস্টাররোলে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর ফারুক আহমেদ শেরপুরের জেলার নকলা উপজেলার চরভাবনা এলাকার।
এদিকে উদ্ধার হওয়া অপহৃত ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ (৩০) ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পনঘাগড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি পাশ্ববর্তী চুরখাই বাজারে গো-খাদ্যের ব্যবসা করেন।
কোতুয়ালী মডেল থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম জানান, অপহরণ সিন্ডিকেট চক্রটি কখনো ডিবি আবার কখনো ডিজিএফআই বা পুলিশ পরিচয় দিয়ে নিরীহ মানুষ বা ব্যবসায়ীদের মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায় করত। শুক্রবার ওই ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর তাকে বাইপাস এলাকার নটরডেম কলেজের পেছনে জালালের মোড় নামক নির্জন স্থানে নিয়ে মারধরের সময় চিৎকারে টহল পুলিশ টের পেয়ে তাদের আটক করে।
এএসআই কাদিরুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাইপাস এলাকায় টহলে থাকা অবস্থায় একটি মোটরসাইকেলযোগে চলাচলকারী তিনজনের গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয়। কিছুক্ষণ পর নটরডেম কলেজের পেছনে জালালের মোড়ে একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে ডাকচিৎকার শুনতে পেয়ে অভিযান চালিয়ে দুপুর ২টার দিকে চারজনকে হাতেনাতে আটক করি। এদের মধ্যে ডিজিএফআই পরিচয়ধারী সাবেক সেনা সদস্য শাহীন ইসলাম ও ডিবি পুলিশের পরিচয়ধারী সিটি করপোরেশনে মাস্টাররোলে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর ফারুক আহমেদ প্রথমে ওই ব্যবসায়ীর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়।
পরে ফারুক আহমেদের মোটরসাইকেলযোগে সামাদকে মাঝখানে বসিয়ে ওই নির্জন ভবনে নিয়ে আসে। সেখানে আরও দুজন অপেক্ষারত ছিল। সেখানে সামাদকে মারধরের পর পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে তাদের কথামতো অপহৃত ব্যবসায়ী সামাদের মোটরসাইকেলটিসহ আরও একজনকে আটক করি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিজিএফআই পরিচয়ধারী সাবেক সেনা সদস্য শাহীন ইসলামকে মোমেনশাহী ক্যান্টনমেন্টে এবং অপর চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়।
অপহৃত ব্যবসায়ী আবদুস সামাদ জানান, শুক্রবার এক আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার পথে চুরখাই এলাকায় কয়েকজন তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে নিজেদের ডিবি ও ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয় দিয়ে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাকে বাইপাস নটরডেম কলেজের পেছনে জালালের মোড় এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে মারধর শুরু করে এবং মোবাইল কেড়ে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয় তারা। এ সময় তার ডাকচিৎকারে টহল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে আবদুস সামাদ বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। পরে পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।

