Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

বছরের পর বছর কেটেছে আশ্বাসে, কাঁচা সড়কে নাকাল নলুয়াবাগীর মানুষ

Advertisement

Icon

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

বছরের পর বছর কেটেছে আশ্বাসে, কাঁচা সড়কে নাকাল নলুয়াবাগীর মানুষ

শিক্ষার্থীদের পোশাক, জুতা ও বই-খাতা কাদায় নষ্ট হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারে না।

Advertisement

উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি থাকলেও পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াবাগী এলাকার একটি কাঁচা সড়কের চিত্র বদলায়নি বছরের পর বছর। ঢালীর বাজার থেকে পশ্চিম নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে নলুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কে হাঁটুসমান কাদা জমে থাকায় পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী ও কৃষকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা গেছে, রাবনাবাদ নদীর কোলঘেঁষা গোলখালী ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে নলুয়াবাগী এলাকা। এখানে ২০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। এলাকায় নলুয়াবাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নলুয়াবাগী রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরবাদুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বলবুনিয়াসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, নলুয়াবাগীতে প্রায় ৩২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার পাকা হলেও বাকি ২২ কিলোমিটার এখনো কাঁচা। ফলে বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও মিলেছে শুধু আশ্বাস। বর্ষা এলেই কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয় এলাকাবাসীকে। শিক্ষার্থীদের পোশাক, জুতা ও বই-খাতা কাদায় নষ্ট হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। ফলে কমে যায় উপস্থিতি, ব্যাহত হয় নিয়মিত পাঠদান।

পশ্চিম নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, নলুয়াবাগীর গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়ক এখনো কাঁচা। বর্ষায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে চরম অসুবিধা হয়। দ্রুত সড়কগুলো পাকাকরণের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা মহাসিন বলেন, বছরের পর বছর ধরে নলুয়াবাগীর মানুষ অবহেলিত। বর্ষায় সড়কে হাঁটুসমান কাদা হয়। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে অনেক সময় খাটিয়া ব্যবহার করতে হয়। নলুয়াবাগীর কাঁচা সড়কগুলো দ্রুত পাকাকরণের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়কগুলোর অবস্থা এতটাই খারাপ যে অসুস্থ রোগীকে কয়েক কিলোমিটার কাদা মাড়িয়ে খাটিয়ায় বহন করে নিতে হয়। পাকা সড়কে উঠতেও অনেককে চার কিলোমিটার পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা পাড়ি দিতে হয়।

সম্প্রতি অসুস্থ মাহতাব ফরাজিকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো যানবাহন পাওয়া যায়নি। পরে স্বজনেরা খাটিয়ায় করে কাদা মাড়িয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা নলুয়াবাগীতে নতুন নয়।

শুধু রোগী ও শিক্ষার্থীরাই নন, কৃষকরাও পড়েছেন বিপাকে। সড়কের কারণে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে বাড়তি সময় ও পরিবহণ খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের। ফলে কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এলজিইডির গলাচিপা উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সড়কটি পাকাকরণের জন্য এলজিইডি অধিদপ্তরে শিগগিরই প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বাজেট পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম