Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে মামলার আলামত, ক্ষতিগ্রস্ত মালিক-সরকার

Advertisement

Icon

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে মামলার আলামত, ক্ষতিগ্রস্ত মালিক-সরকার

দীর্ঘদিনের রোদ-বৃষ্টি ও ধুলায় ধূসরিত এসব যানের বেশির ভাগই আজ ব্যবহারের সম্পূর্ণ অযোগ্য।

Advertisement

ঠাকুরগাঁও আদালত চত্বরে খোলা আকাশের নিচে বছরের পর বছর ধরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন যানবাহন। কোনোটির আসন নেই, কোনোটির দরজা বা কাচ উধাও, আবার কোনোটি মরিচা ধরে মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। 

মামলার দীর্ঘসূত্রতা এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থার অভাবে একদিকে যেমন ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পদ মূল্য হারাচ্ছে, অন্যদিকে নিলামে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। 

সরেজমিনে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও আদালত এলাকার পেছনে বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি জব্দ করা মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, ট্রাক, পিকআপ ও অটোরিকশা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। 

দীর্ঘদিনের রোদ-বৃষ্টি ও ধুলায় ধূসরিত এসব যানের বেশির ভাগই আজ ব্যবহারের সম্পূর্ণ অযোগ্য। অনেক যানবাহনের কঙ্কালসার কাঠামো ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

আদালতের মালখানা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সাল থেকে জেলার বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ও সড়ক দুর্ঘটনার মামলায় জব্দ করা যানবাহন এখানে জমা করা হয়। 

বর্তমানে সেখানে প্রায় ২০০টি মোটরসাইকেল, আড়াই শতাধিক বাইসাইকেল, একটি ট্রাক, কয়েকটি কার, পিকআপ ভ্যান এবং অটোরিকশা রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি হতে ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত সময় লাগায় আলামতগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

মালখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কোর্ট এসআই আব্দুল মালেক জানান, গত মাসেও ১৬টি মোটরসাইকেল নিলাম করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও স্থান সংকটের কারণে বাকি যানবাহনগুলো সুরক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আলামত সংরক্ষণ করতে হলেও খোলা আকাশের নিচে এভাবে পচানোর ফলে মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, আর নিলামেও সরকার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আব্দুল হালিম ও আইনজীবী আশিকুর রহমান দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এসব সম্পদ রক্ষার তাগিদ দিয়েছেন।

চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. লুৎফর রহমান বলেন, বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ ছাড়া আলামত হস্তান্তরের সুযোগ নেই। তবে মালখানার নিজস্ব জায়গা না থাকায় এই সমস্যা হচ্ছে। শেড নির্মাণের জন্য গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে কথা বলা হবে।

তিনি আরও জানান, চলতি মাসেই একটি বড় পরিসরে নিলামের প্রস্তুতি চলছে, যার মাধ্যমে মালখানার বড় একটি অংশ খালি করা সম্ভব হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম