কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান
নোয়াখালীতে আটক ১৭০, আইনি ব্যবস্থা ১৮ জনের বিরুদ্ধে
Advertisement
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নোয়াখালীর বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের ১৭০ সদস্যকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। তাদের মধ্যে ১৮ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকায় বাকি ১৫২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রোববার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন।
এর আগে শনিবার দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ১০ জনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে এবং অপর ছয়জনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বাকি ১৫২ জনকে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, থানাভিত্তিক অভিযানে হাতিয়ায় সর্বোচ্চ ৪৯ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ও ছয়জনকে ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয় এবং ৪১ জনকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
বেগমগঞ্জ মডেল থানায় আটক ৩২ জনের মধ্যে চারজনকে ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দিয়ে বাকি ২৮ জনকে পরিবারের কাছে দেওয়া হয়। সোনাইমুড়ী থানায় আটক ১৮ জনের মধ্যে ছয়জনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় এবং বাকি ১২ জনকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
এছাড়া আটক বাকিদের সবার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকায় মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে কোম্পানীগঞ্জে ১৭ জন, কবিরহাটে ৯ জন, চাটখিলে ৬ জন, সুধারাম মডেল থানায় ৪ জন, সেনবাগে ৩ জন এবং চরজব্বর থানায় ৩২ জন রয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা নির্মূলে পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, কিশোরদের অপরাধমুক্ত ও সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক ও সামাজিক প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
