বিদ্যালয়ের সভায় ‘কথা কস ক্যারে’ বলে শিক্ষিকাকে থাপ্পড় শিক্ষকের
Advertisement
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩০ এএম
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বিদ্যালয়ের সভা চলাকালে এক সহকারী শিক্ষিকাকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বিদ্যালয়ের সভা চলাকালে এক সহকারী শিক্ষিকাকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. খুরশেদ আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনাটি গত ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সভায় প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে সহকারী শিক্ষক খুরশেদ আলমের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হচ্ছে।
একপর্যায়ে পাশে বসা তার স্ত্রী ও সহকারী শিক্ষক তাকে শান্ত হতে বলেন।
এ সময় খুরশেদ আলম ওই শিক্ষিকাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘থাপ্পড় দিয়া দাঁত ফালাইয়া দিবো, কথা কস ক্যারে?’ জবাবে ওই শিক্ষিকাকে বলতে শোনা যায়, ‘এখন রাখুন, এটা অফিস।’ এরপর খুরশেদ বলেন, ‘অফিস হইছে দেইখখা কী হইছে? আমি কি কেউর কর্মচারী?’ একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে থাপ্পড় মেরে ‘বাইর হ’ বলে ধমক দেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পাঁচ দিন পর ২০ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দেন। পরে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শীতেষ চন্দ্র পালকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সোমবার (৫ অক্টোবর) তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
কলমাকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন খান বলেন, ‘তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক খুরশেদ আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল আজম বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রী হলেও বিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো শিক্ষক আরেকজন শিক্ষককে থাপ্পড় মারতে পারেন না। এ ধরনের আচরণ চাকরি বিধির পরিপন্থী। তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক মো. খুরশেদ আলম বলেন, ঘটনার সময় তিনি রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। এ ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত। ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় তিনি বিব্রত অবস্থায় রয়েছেন। তিনি ও তার স্ত্রী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

