মধুপুরে ঝড়ে লন্ডভন্ড কলার বাগান, বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু
Advertisement
মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টাঙ্গাইলের মধুপুরে হঠাৎ আঘাত হানা ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্নের কলাবাগান। কয়েক মিনিটের ঝড়েই শোলাকুড়ী ও অরণখোলা ইউনিয়নের অন্তত ৭ থেকে ৮টি গ্রামের হাজার হাজার কলাগাছ ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে। অনেক বাগানের কলাসহ গাছ ভেঙে পড়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ বয়ে যাওয়া ঝড়ে জয়নাগাছা, বেদুরিয়া, সাধুপাড়া, সাইনামারী, হরিণধরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কলাবাগান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে পেঁপেসহ অন্য ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
জয়নাগাছা গ্রামের কৃষক কাজল চিসিম জানান, কলাগাছের মাজা ভাঙেনি, ভেঙে গেছে কৃষকের মাজা। তার নিজের কলাবাগানও ঝড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশপাশের আরও অনেক কৃষকের কলাগাছ ভেঙে পড়েছে।
হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন জানান, জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি আনারস ও কলাবাগানে বিনিয়োগ করেছি। অনেক দিন ধরে পরিচর্যা করেছি। ফসল বিক্রি করে পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর স্বপ্ন ছিল; কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে চোখের সামনেই সব শেষ হয়ে গেল। এখন কিভাবে ঘুরে দাঁড়াব, সেটাই বুঝতে পারছি না।
কৃষক আনিছুর রহমান হীরা জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হঠাৎ ঝড় শুরু হয়। কয়েক মিনিটের ঝড়েই চোখের সামনে একের পর এক কলাগাছ ভেঙে পড়তে দেখি। ওই সময় বজ্রপাতে তার এক শ্রমিকের আত্মীয় মধুপুর-মুক্তাগাছা সীমান্তবর্তী কামারিয়া গ্রামের আফেজ মণ্ডলের ছেলে মজিবর রহমান (৩০) মারা গেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে মধুপুরের বিপ্রবাড়ী এলাকার মনিরের প্রায় এক হাজার কলাগাছ কলাসহ মাটিতে পড়ে গেছে। সাধুপাড়া গ্রামের বিন্দু রেমা, ইউনুস, বর্ণিল দফো ও সারমিন রিছিলের কয়েক বিঘা জমির চম্পা কলার বাগানও ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কলাচাষে শ্রম, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যায় দীর্ঘদিনের বিনিয়োগের পর ফলন পেতে শুরু করেছেন; কিন্তু কয়েক মিনিটের ঝড়েই সেই স্বপ্ন মাটিতে মিশে গেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।
মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম জানান, বুধবার দুপুরের ঝড়ে অরণখোলা, ফুলবাগচালা ও শোলাকুড়ী ইউনিয়নের প্রায় ৮৭ হেক্টর জমির কলাবাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে চম্পা কলার বাগানের ক্ষতি বেশি হয়েছে। এছাড়া পেঁপেসহ অন্যান্য ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, সরেজমিন না গিয়ে টাকার অঙ্কে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার সরেজমিন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে।
