নেত্রকোনা সরকারি কলেজ
৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক ২ জন!
Advertisement
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
নেত্রকোনা সরকারি কলেজ।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রতিদিন আটটি ক্লাশ হওয়ার কথা, কিন্তু শিক্ষকসংকটে হচ্ছে মাত্র এক বা দুটি। নেত্রকোনা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের এমন পরিস্থিতিতে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর পাঠদান চালাতে হচ্ছে। শুধু ইংরেজি নয়, অন্যান্য বিভাগেও শিক্ষকসংকটে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান। ফলে প্রাইভেট ও কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
কলেজের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খুসবো তারান্নুমের প্রতিদিন আটটি ক্লাশ হওয়ার কথা থাকলেও নিয়মিত এক থেকে দুটির বেশি হয় না। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান আহমেদের নয়টি ক্লাশের বিপরীতে গড়ে হয় মাত্র একটি। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে পাঠগ্রহণে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
বিভাগটির স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী একই সমস্যায় ভুগছেন। পাশাপাশি একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ডিগ্রি এবং ১৪টি বিষয়ে সম্মান শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও এর প্রভাবের মুখে পড়ছেন। কারণ, সম্মান শ্রেণিতে সব বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ নম্বরের ইংরেজি বাধ্যতামূলক।
কলেজের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকের অনুমোদিত পদ চারটি। এর মধ্যে সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের দুটি পদ প্রায় আট বছর ধরে শূন্য। প্রভাষক কাজী আশরাফুন হুমায়রা জানান, একজন সংযুক্ত শিক্ষক ও বাইরে থেকে আনা তিনজন অতিথি শিক্ষক দিয়ে ক্লাশ নেওয়া হচ্ছে। তবু প্রয়োজন মিটছে না। তার হিসাবে, বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৯টি ক্লাশ নিতে হয়।
বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রভাষক রানা আহমেদ বলেন, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পাঠদানের জন্য মানসম্মত অতিথি শিক্ষকও পাওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পাঠ দিতে না পারায় আমাদেরও খারাপ লাগে।
গণিত ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগেও একই চিত্র। গণিত বিভাগে চারটি অনুমোদিত পদের বিপরীতে শিক্ষক আছেন দুজন। উচ্চমাধ্যমিক ও বিএসসি মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীকে তাদের পড়াতে হয়।
প্রভাষক শাহীজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক কম থাকায় নিয়মিত ক্লাশ নেওয়া কঠিন হচ্ছে, কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও। প্রাণিবিদ্যা বিভাগেও চারটি পদের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন দুজন।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, একাদশ শ্রেণি থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত অন্তত ১৫ হাজার ৪৫৪ জন শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছেন। কলেজে শিক্ষকের প্রয়োজন ২৩৭ জন। অথচ অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ বাদে অনুমোদিত পদ রয়েছে ৬৫টি। এর মধ্যে ২৯টি পদ শূন্য; কর্মরত শিক্ষক মাত্র ৩৬ জন।
উপাধ্যক্ষ মো. আবদুল কাদির ফকির জানান, সমপর্যায়ের অন্যান্য সরকারি কলেজে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হলেও নেত্রকোনা সরকারি কলেজে তা হয়নি।
অধ্যক্ষ মো. আবু তাহের খান বলেন, শিক্ষকসংকট নিরসনে ১৭০টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব প্রায় দুই বছর আগে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে সংকট অনেকটাই কমবে। এ ছাড়া ছেলেদের জন্য ছয়তলা আবাসিক হল নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে যুগ্ম সচিব জহিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা আছে এবং এ নিয়ে কাজ চলছে। দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

-6ac903d490294.jpg)