সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ঘিরে উত্তেজনা, বিপাকে পর্যটকরা
Advertisement
রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ঘিরে উত্তেজনা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে। রোববার সকাল ৬টায় শুরু হওয়া এ অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে পুরো এলাকায় টানটান উত্তেজনা ও জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জেএসএস ও ইউপিডিএফের মুখোমুখি অবস্থান এবং সড়ক অবরোধের কারণে বিপাকে পড়েছেন সাজেকে বেড়াতে যাওয়া সহস্রাধিক পর্যটক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যটন সড়কসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
রোববার বিকালে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া পাহারায় সাজেকে আটকেপড়া পর্যটকবাহী গাড়ি নিরাপদে গন্তব্যে পাঠানো হয়।
জানা যায়, ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন’ যৌথভাবে অনির্দিষ্টকালের এ সড়ক অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেয়।
অবরোধকারীদের অভিযোগ, সাজেকে জেএসএস নামধারী কিছু সশস্ত্র সন্ত্রাসী অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের হুমকি-ধমকি দিয়ে এলাকায় ভীতি ছড়াচ্ছে। এসব চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে প্রশাসনকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সাজেক সড়কে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি চলবে।
এদিকে অবরোধের সমর্থনে রোববার সকাল থেকে সাজেক সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছের গুঁড়ি ফেলে পথরোধ করেন পিকেটাররা।
হঠাৎ এ অবরোধের মুখে পড়ে সাজেকে অবস্থানরত এবং নতুন করে সাজেকগামী অসংখ্য পর্যটক বিপাকে পড়েন।
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা জানান, আগে থেকেই সাজেকে অবস্থান করছিলেন প্রায় ১ হাজার ২৫০ পর্যটক। এর বাইরে রোববার সকালে আরও বেশ কিছু পর্যটক খাগড়াছড়ি হয়ে সাজেকের উদ্দেশে রওনা দেন। সকালে সাজেকগামী পর্যটকরা বাঘাইছড়ির বাঘাইহাটে আটকে পড়েন এবং সাজেক থেকেও কোনো গাড়ি ছাড়া সম্ভব হয়নি।
খাগড়াছড়ি মাহিন্দ্র গাড়ির মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সভাপতি টুন্টু মনি চাকমা জানান, পর্যটনের এ ভরা মৌসুমে দৈনিক গড়ে মাহিন্দ্র ও জিপ মিলিয়ে সহস্রাধিক পর্যটক সাজেক যাতায়াত করেন। রোববার সকালেও অনেকে সাজেকের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু অবরোধের কারণে তারা বাঘাইহাটের পর আর এগোতে পারেননি।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা বলেন, অবরোধের আভাস পেয়ে কিছু পর্যটক আগেই ফিরে গিয়েছিলেন। এরপরও প্রায় দেড় হাজার পর্যটক সাজেকে অবস্থান করছিলেন। সকালে কোনো গাড়ি ছাড়া না গেলেও বিকালে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় পর্যটকদের গাড়ি পাঠানো হয়েছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা দাবি করেন, তাদের পূর্বঘোষিত সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে। সকালে নিরাপত্তার স্বার্থে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও বিকালে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় পর্যটকবাহী সব গাড়ি সাজেক থেকে এবং একইভাবে বাঘাইহাট থেকে সাজেকের উদ্দেশে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জেএসএসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে সংগঠনটির সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, ইউপিডিএফের চাপে দুটি সংগঠন এই অবরোধ দিতে বাধ্য হয়েছে। সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের নিপীড়ন ধামাচাপা দিতেই জেএসএসের ওপর মিথ্যা দায় চাপানো হচ্ছে।
তবে ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা পাল্টা দাবি করে বলেন, কারও চাপে নয়, সাধারণ জনগণের যৌক্তিক দাবির প্রতি ইউপিডিএফ সংহতি প্রকাশ করেছে।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের বিক্ষোভ মিছিল
সাজেক সড়ক অবরোধের প্রতি সমর্থন জানিয়ে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) খাগড়াছড়ি জেলা শাখা। রোববার বেলা ১১টায় খাগড়াছড়ি সদরের টিউফা স্কুলগেট এলাকা থেকে মিছিলটি বের হয়ে স্বনির্ভর এলাকায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে পিসিপির খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রাঞ্জল চাকমা বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগ করেন, সাজেকে অবস্থানরত সশস্ত্র ব্যক্তিরা সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালিয়ে শিশু কস্মিতা ত্রিপুরাসহ জুমচাষিদের আহত করেছে এবং কারবারিদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। অবিলম্বে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানান তিনি।
