মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় ভাঙল ২০ বছরের সংসার
Advertisement
বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নাটোরের বড়াইগ্রামে স্বামীকে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় ২০ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটেছে। মাদকাসক্ত স্বামী প্রথমে স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ পাঠান এবং পরে সহযোগীদের নিয়ে তার ওপর নির্যাতন শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্বামী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন, স্বর্ণালংকার লুট, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন লাকী খাতুন (৩৮) নামে ভুক্তভোগী এক নারী।
মঙ্গলবার রাতে তিনি বড়াইগ্রাম থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
লাকী খাতুন বড়াইগ্রাম পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বড়াইগ্রাম পশ্চিমপাড়ার খলিলুর রহমানের স্ত্রী।
অভিযুক্তরা হলেন—লাকীর স্বামী খলিলুর রহমান (৪৫), তার সহযোগী রেজা আলী (৪৫), সেলিম হোসেন (৫০), আব্দুল মালেক (২৩), কামরুল ইসলাম (২৫), আতিক হোসেন (২৩) ও আমিরুল মিয়া (২৪)।
লাকী খাতুন জানান, তার বাবার বাড়ি লালমনিরহাট জেলায়। ২০ বছর আগে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করার সময় খলিলুর রহমানের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে নুর ইসলাম বিজয় (১৩) ও নুসরাত আফরিন জয়া (৩) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর তার স্বামী প্রবাসে পাড়ি জমান। স্বামী বিদেশে থাকাকালীন তিনি একাই শ্বশুর-শাশুড়ির যাবতীয় সেবা ও দেখাশোনা করতেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিদেশ থেকে দেশে ফিরে খলিলুর রহমান মাদক সেবন ও বিক্রির কারবারে জড়িয়ে পড়েন। অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিরাও তার স্বামীর সঙ্গে নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। এমনকি তারা বসতঘরের শয়নকক্ষে ঢুকেও মাদক সেবন করতেন। তাদের এসব অপকর্মে বাধা দিলে তাকে নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। একপর্যায়ে সহযোগীদের প্ররোচনায় দুই সপ্তাহ আগে খলিলুর রহমান তাকে ডাকযোগে তালাকের নোটিশ পাঠান। এরপর থেকেই সহযোগীদের নিয়ে খলিলুর তাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা চালাতে থাকেন।
লাকী আরও জানান, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্তরা তার বসতবাড়ির চারপাশে ঘোরাফেরা করতে থাকে। এ সময় তিনি তাদের চলে যেতে বললে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে তাকে মারধর করে এবং গলায় ধারালো ছুরি ধরে হত্যার হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত স্বামী খলিলুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযুক্ত সেলিম হোসেনের দাবি, আমার আলাদা বাড়ি। মারপিটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা বরং চেষ্টা করছি তাদের সংসারটি যাতে ভেঙে না যায়।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
