কন্যা দিবসে মেয়েকে নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস প্রতিমন্ত্রী পুতুলের
Advertisement
সাহীন ইসলাম, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ে নাযাহর ছবি পোস্ট করে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন- ‘একটি দিবস নয়, আমাদের কন্যারা মহাকালের বুকজুড়ে তাদের অস্তিত্ব জানান দিয়ে যাক প্রতিদিন-প্রতি মুহূর্তে।’
স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন- ‘বহুদিন পর একলা ট্রাভেল করছি নাযাহকে নিয়ে। ম্যানিলা কনফারেন্স শেষে এখন দেশের পথে। কানেক্টিং ফ্লাইটে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকার টিকিট না পাওয়ায় ওর বাবা কিছু কাজ শেষ করতে মালয়েশিয়ায় থেকে গেল। ডাক্তারের নির্দেশে এখনো কিছুটা সাবধানে চলাফেরা করতে হয় আমাকে; ভারি কিছু ওঠানো নিষেধ। এয়ারপোর্টে চেক-ইন, বোর্ডিং এবং লাগেজ ক্যারি—সব কাজই সে আমার হাত থেকে কেড়ে নিয়ে করতে চায়। ভারি ব্যাকপ্যাক ওঠাতে গিয়ে তার ধমকও খেলাম একবার।’
মেয়ের ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে তিনি লেখেন- আজ থেকে বছর দশেক আগে কোনো এক শীতের দুপুরে বিক্ষিপ্ত মনে আমার দেড় বছরের নাযাহকে কোলে নিয়ে ঘুম পাড়াচ্ছিলাম। ভীষণ জ্বরে মেয়েটা কাবু হয়ে বুকের মাঝে লেপটে ঘুমিয়ে ছিল। ২০১৬ সালে আব্বুর চলে যাওয়া আমার এবং আমাদের জীবনকে ভীষণ কঠিন পরীক্ষার মাঝে ফেলে দিয়েছিল। প্রতিদিনের ভেঙে পড়া আর উঠে দাঁড়ানোর পাওয়ার হাউস হয়ে আমার শক্তি জুগিয়ে যেত তখন এই ছোট্ট প্রাণটি। যার বুকে কান পেতে আমি হৃদস্পন্দন শুনতাম। আর ভাবতাম, ঘরের বাইরের এই কঠিন পৃথিবীর জন্য ওকে গড়ে তুলতে হবে।
চলমান সামাজিক বাস্তবতা ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন- রোববার আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানসহ বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণ করতে হবে। সারা বিশ্ব পালন করবে বিভিন্ন আয়োজনে, প্রতিপাদ্য নিয়ে আলোচনা হবে। আমাদের কন্যারা তাদের স্বকীয়তা, নিজস্বতা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে বেড়ে উঠুক—সেই প্রত্যয় ব্যক্ত হবে সভায়, সেমিনারে ও মঞ্চে। অথচ চোখ বুজে যখন তনু, আছিয়া, রামিসা আর তাজমীনদের কথা ভাবি, তখন কেমন যেন দম বন্ধ হয়ে আসে। তাদের জন্য নিরাপদ এক দেশ আমরা এখনো দিতে পারিনি, এ আমাদের চরম ব্যর্থতা। আগুন লাগলে দেবালয় এড়ানো যায় না। একটি নিরাপদ, বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
স্ট্যাটাসের শেষে তিনি লেখেন- "মোবাইল ফোন থেকে চোখ তুলে পাশে তাকিয়ে দেখি নাযাহ তাকিয়ে আছে আমার দিকে। গম্ভীরভাবে জিজ্ঞেস করল, ‘কী করছ অন্ধকারে?’ আমি হেসে বললাম, ‘তোমাকে নিয়ে লিখছি’। কিছুটা অবাক হলো। বললাম, ‘আজ কন্যাশিশু দিবস, তাই তোমাকে নিয়ে লিখতে ইচ্ছে হলো’। তার প্রশ্ন, ‘এক দিনের জন্যই লিখবে?’ কী গভীর এক জিজ্ঞাসা কত অবলীলায় ছুড়ে দিল সে! স্তম্ভিত হয়ে তাকিয়ে থাকলাম অনেকক্ষণ!
একটি দিবস নয়, আমাদের কন্যারা মহাকালের বুকজুড়ে তাদের অস্তিত্ব জানান দিয়ে যাক প্রতিদিন-প্রতি মুহূর্তে। কিছুক্ষণ চুপ থেকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘রাতের ওষুধ খেয়েছি?’ কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে সে মুচকি হেসে বলল, ‘হ্যাঁ, খেয়েছ…!’
প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের এমন আন্তরিক ও সংবেদনশীল লেখাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং পাঠকদের প্রশংসায় ভাসছে।
