স্কুলে শাসনের জের
রাস্তায় গাছের ডাল দিয়ে শিক্ষককে পেটাল ছাত্র
Advertisement
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বগুড়ায় শিক্ষককে পিটিয়ে গাছের ডাল হাতে পালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থী কিরণ -সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্কুলে শাসন করায় ছুটির পর রাস্তায় শরীরচর্চা শিক্ষককে গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। এতে শিক্ষকের থুতনি ফেটে যাওয়ায় আটটি সেলাই দিতে হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীকে বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মঙ্গলবার বহিষ্কার করা হয়েছে। আগের দিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সামনে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রিয়াদ ইসলাম কিরন বগুড়া সদর উপজেলার রজাকপুর গ্রামের বিপুল মিয়ার ছেলে। আহত শিক্ষকের নাম রায়হান ইসলাম। স্কুলের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে স্কুল ছুটির পর মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন শিক্ষক রায়হান। পথে গাছের ডাল হাতে দাঁড়িয়ে ছিল শিক্ষার্থী কিরন। শিক্ষক ওই স্থানে পৌঁছালে তাকে থামতে বলে সে। শিক্ষক থামার সঙ্গে সঙ্গে কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাছের ডাল দিয়ে তার মুখ ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায় কিরন।
অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, থুতনি ছাড়াও শিক্ষকের ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাড়িতে অবস্থান করছেন। তিনি জানান, ক্লাসে অমনোযোগীসহ নানা কারণে অভিভাবক ডেকে আনতে বলায় কিরন ক্ষিপ্ত হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হামলাকারী ছাত্রের শাস্তির দাবিতে প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। তারা জানান, সপ্তম শ্রেণির ‘খ’ শাখার শিক্ষার্থী কিরন ক্লাসে খুব অমনোযোগী। ক্লাসে সে প্রায়ই অন্যদের মারধরসহ শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে থাকে। সোমবার শিক্ষক রায়হান তাকে ডেকে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষের কাছে নিয়ে যান। এরপর বাবা-মাকে ডেকে তাকে টিসি দিতে বলেন। এতে ওই ছাত্র ক্ষিপ্ত হয়।
এদিকে শিক্ষককে মারধর ও লাঠি হাতে কিরনের দৌড়ে পালানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন গ্রুপ থেকে বিচারের দাবি ওঠে। অনেকেই মঙ্গলবার সকালে প্রতিষ্ঠানে এসে ক্ষোভ প্রকাশ এবং অভিযুক্ত ছাত্রের শাস্তির দাবি করেন। অধ্যক্ষ ওই ছাত্রকে স্থায়ী টিসি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরেছে।
