আজ বিশ্ব মান দিবস
ভেজালের রাজ্যে মানের অঙ্গীকার
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাজারের থলিতে পণ্য, পণ্যের ভেতরে ভেজাল। কোথাও খাদ্যে ক্ষতিকর উপাদান, কোথাও নিুমানের পণ্য, আবার কোথাও মোড়কে লেখা ওজনের চেয়ে কম। দাম দিয়ে পণ্য কিনেও নিশ্চিন্ত নন ক্রেতা। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে হুমকির মুখে মানুষের স্বাস্থ্য ও অধিকার। এমন বাস্তবতায় আজ বিশ্ব মান দিবস। পণ্য ও সেবার মান সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিই দিবসটির মূল লক্ষ্য। কিন্তু দেশের বাজারে সেই অঙ্গীকার কতটা বাস্তব? অর্থাৎ ভেজালের রাজ্যে মানের অঙ্গীকার। পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, সঠিক ওজন নিশ্চিত করা এবং মানহীন পণ্য বাজারজাত বন্ধে দায়িত্ব রয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই)। প্রতিষ্ঠানটি অভিযান চালায়, জরিমানা করে, নমুনা পরীক্ষা করে। কিন্তু এই অভিযান মান নিয়ন্ত্রণে সামান্যই ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিবছর ১৪ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী মান দিবস পালন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় এবার পালিত হচ্ছে ৫৭তম দিবস।
এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় : ‘অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব-সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি’। বিশ্বের প্রধান তিনটি মান সংস্থা-ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডার্ডারাইজেশন (আইএসও), ইন্টারন্যাশনাল ইলেকট্রোটেকনিক্যাল কমিশন (আইইসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিআইউ) সম্মিলিতভাবে এই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় মান নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসআইটি)। প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে ‘সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি’।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন অভিযান ও জরিমানার পরও বাজারে অনিয়ম থামে না। তাদের মতে, শুধু জরিমানা নয়, অপরাধীর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বাজার থেকে নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে হবে। প্যাকেটের গায়ে লেখা ওজনের সঙ্গে প্রকৃত ওজন মিলিয়ে দেখতে হবে। ভেজাল ও ওজনে কারচুপির ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, বিশ্ব মান দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি মানুষের নিরাপদ পণ্য পাওয়ার অধিকারের কথা মনে করিয়ে দেয়। মানের প্রশ্নে ছাড় দিলে ক্ষতি শুধু পকেটের নয়, জীবনেরও। মান দিবসের অঙ্গীকার হোক-ভেজালমুক্ত পণ্য, সঠিক ওজন এবং জবাবদিহিমূলক বাজার। বিএসটিআই থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এবারের প্রতিপাদ্যের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে। তা হলো জ্বালানি উৎপাদন করাই যথেষ্ট নয়, সেই জ্বালানির প্রতিটি ইউনিটের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাও জাতীয় দায়িত্ব। জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৭নং গোল অর্জনের লক্ষ্যে একটি উন্নত, টেকসই ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য সামগ্রিকভাবে প্রয়োজন একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং সম্মিলিত উদ্যোগ। এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান একটি কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক হাতিয়ার হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক জ্বালানিতে সবার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএসটিআই ইতোমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, চার্জ কন্ট্রোলার ও ব্যাটারির ৭৯টি মান প্রণয়ন করেছে। আন্তর্জাতিকমানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব মান নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। বিএসটিআই ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৬৩১টি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস বা মান প্রণয়ন করেছে।
পণ্যের মান যাচাইয়ে বিএসটিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে স্থাপিত সোলার প্যানেল টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে রয়েছে। এই ল্যাবরেটরিতে রয়েছে জার্মানির অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সান সিমুলেটর। এর মাধ্যমে ১ হাজার ওয়াট ক্ষমতা পর্যন্ত সোলার প্যানেল পরীক্ষা করা সম্ভব। বিএসটিআই আরও জানায়-আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুসরণ এবং উচ্চমানের আলোর উৎস ও ক্যালিব্রেটেড যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে ল্যাবরেটরিটি সোলার প্যানেলের কার্যক্ষমতা ও গুণগত মানের নির্ভরযোগ্য পরীক্ষণ নিশ্চিত করছে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে বিএসটিআই বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে ঢাকায় অফিসার্স ক্লাবে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন। এছাড়াও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. ফজলুল হক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন। প্রধান কার্যালয়ের পাশাপাশি বিভাগীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়ে আলোচনা সভাসহ প্রচার-প্রচারণামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ সাক্ষাৎকারভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠান, বিটিআরসির মাধ্যমে বিভিন্ন মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা (এসএমএস) প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন এবং প্ল্যাকার্ড লাগানো হয়েছে।
