Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

স্ত্রীর সঙ্গে লুৎফুজ্জামানের শেষ কথা, ‘বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে দাও, আসতে একটু দেরি হবে’

Advertisement

Icon

কামাল হোসাইন, নেত্রকোনা

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

স্ত্রীর সঙ্গে লুৎফুজ্জামানের শেষ কথা, ‘বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে দাও, আসতে একটু দেরি হবে’

Advertisement

‘বাচ্চাদের ভাত খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও। আমার আসতে একটু দেরি হবে, একটা নিউজ নিয়ে ব্যস্ত আছি।’ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্ত্রী আনন্দিতা সাংমাকে মোবাইল ফোনে এ কথাই বলেছিলেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪৪)।

তখন আনন্দিতার কোলে ছিল দেড় বছরের ছেলে আইয়ান সাফওয়ান। তিনি ভাবতেও পারেননি, স্বামীর সঙ্গে এটিই তার জীবনের শেষ কথা হবে।

দুই সন্তানকে রাতের খাবার খাইয়ে স্বামীর অপেক্ষায় বসে ছিলেন আনন্দিতা। কিছুক্ষণ পরই তিনি তীব্র গুলির শব্দ শুনতে পান। প্রথমে ভেবেছিলেন আশপাশে কেউ হয়তো পটকা ফুটিয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরেই জানতে পারেন, তার স্বামীকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে। দ্রুত ছুটে গিয়ে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান।

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে লুৎফুজ্জামানের শ্বশুরবাড়ির কাছে একটি চায়ের দোকানের সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দুই যুবক খুব কাছ থেকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে পরপর অন্তত পাঁচটি গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি একটি অত্যন্ত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

লুৎফুজ্জামান কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনই গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় আপসহীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতের এই বর্বরোচিত হামলায় নিভে গেল একটি তাজা প্রাণ।

প্রায় ছয় বছর আগে তেলনজিয়া গ্রামের শিলা সাংমা ও প্রয়াত ফিলিপ রাংসার মেয়ে আনন্দিতা সাংমাকে বিয়ে করেন লুৎফুজ্জামান। তাদের চার বছরের মেয়ে প্রান্তি ও দেড় বছরের ছেলে আইয়ান সাফওয়ান রয়েছে।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর অবুঝ শিশুকে কোলে নিয়ে নিথর স্বামীর লাশের পাশে স্তব্ধ হয়ে বসে আছেন আনন্দিতা।

তিনি বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘এভাবে চোখের পলকে একজন মানুষকে গুলি করে মেরে ফেলা হবে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি। বাচ্চাদের যখন ভাত খাওয়াচ্ছিলাম, তখন গুলির শব্দ পেয়ে ভেবেছিলাম পটকা ফুটছে। একটু পরই মানুষ চিৎকার করে বলল, তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বামীকে তো আর কোনোদিন ফিরে পাব না; কিন্তু যারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আমার অবুঝ দুই সন্তানকে এতিম করল, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক বিশেষ ইউনিট মাঠে নেমেছে। ঘটনাস্থল থেকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জের পিস্তলের গুলির খোসা ও একটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর জেলার সব প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘাতকদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

লুৎফুজ্জামানের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

চুয়াডাঙ্গায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও ২৭ মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

চুয়াডাঙ্গায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও ২৭ মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

যেভাবে উদ্ধার হলো চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা

যেভাবে উদ্ধার হলো চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা

বিসিবির গাড়ি থেকে চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা উদ্ধার

বিসিবির গাড়ি থেকে চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা উদ্ধার

পূজায় বাড়ি যাওয়া হলো না পুলিশ সদস্যের

পূজায় বাড়ি যাওয়া হলো না পুলিশ সদস্যের

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম