স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার নির্যাতনে বাড়িছাড়া যুবদল নেতার পরিবার, ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি
Advertisement
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২১ পিএম
দুর্গাপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন ইমান আলী এবং তার পরিবারের সদস্যরা।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মাদকের চালান দেখে ফেলা ও তাতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক যুবদল নেতার পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন, হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে মো. জাহাঙ্গীর (৫০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুর্গাপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন দুর্গাপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও মিনকিফান্দা গ্রামের বাসিন্দা ইমান আলী এবং তার পরিবারের সদস্যরা। জাহাঙ্গীরের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।
লিখিত বক্তব্যে ইমান আলী বলেন, উপজেলার শিমুলতলী এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক কারবার, জমি দখল ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন।
ইমান আলীর অভিযোগ, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে তার ছোট ছেলে মো. রায়হানকে (২৩) মোবাইলে ময়মনসিংহের চরপাড়া এলাকায় ডেকে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে অপহরণ করে সাড়ে তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় তিনি ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।
মুক্তিপণের টাকা দাবি করা মোবাইল নম্বর শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়ার পরদিন বিকালে রায়হানের হাত-পা ও চোখ বেঁধে রাস্তায় ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইমান আলী বলেন, জাহাঙ্গীরের ভয়ে আমরা এখন বাড়িছাড়া। পুরো পরিবার নিয়ে নিজের ভিটায় ফিরে নিরাপদে বসবাস করতে চাই।তিনি জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার, অভিযোগ তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, আমি কোনো ধরনের চোরাচালান, মাদক কারবার কিংবা অন্যের জমি দখল করিনি। এসব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। ইমান আলী ও তার পরিবারের সঙ্গে একসময় আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। তাদের কাছে আমি বেশ কয়েক লাখ টাকা পাই। পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরেই আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমদ খান বলেন, অপহরণের বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে শুনেছি। দুর্গাপুর থানায় এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

