বান্দরবানে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৭
Advertisement
বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
বান্দরবানে পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ ১৭ জন আহত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বান্দরবানে পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ ১৭ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বান্দরবান পৌর এলাকা ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর একজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার পর ছেড়ে দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রত্যক্ষদর্শী হেলাল ও সাগ্যচিং বলেন, সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বান্দরবান পৌর এলাকার মধ্যমপাড়া, উজানীপাড়া ও কালাঘাটা এবং সদর ইউনিয়নের লেমুঝিড়ি এলাকায় কুকুরের কামড়ে ১৭ জন আহত হয়েছেন। সড়কপথে হেঁটে যাবার সময় শিশু, নারী ও পুরুষদের পাগলা কুকুর আক্রমণ করে কামড়িয়েছে।
এদিকে আহতদের মধ্যে উচাইসিং মারমা (৮) এবং চংপ্রেং ম্রো (৬) নামে দুই শিশুও রয়েছে। তারা রাজগুরু বৌদ্ধবিহার থেকে লেখাপড়া করে বাড়ি ফেরার সময়ে কুকুর কামড়ে দেয়।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা চিংইয়ায় থুই মারমা (২৭) খামারে যাওয়ার পথে বঙ্গঝিড়ি সড়কে কুকুরের কামড়ের শিকার হন। লেমুঝিড়ি এলাকার লক্ষ্মী দেবী তঞ্চঙ্গ্যা (৩৫) বাজার থেকে ফেরার পথে আগাপাড়ায় কুকুরের আক্রমণে আহত হন।
আহত কামাল হোসেন (৩০) বান্দরবান সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লেমুঝিড়ি মধ্যমপাড়ার বাসিন্দা। বম হোস্টেল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনি কুকুরের কামড়ের শিকার হন। বর্তমানে তিনি বান্দরবান সদর হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের ২৭ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, সোমবার শহরের বিভিন্ন স্থানে কুকুরের কামড়ে ১৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। একসঙ্গে এত রোগীকে টিকা দেওয়ায় হাসপাতালে ভ্যাকসিনের সংকট দেখা দিতে পারে।
হাসপাতালের তথ্যমতে, চলতি বছরের জুলাই মাসে ৬৭ জন, আগস্টে ১১৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১১৫ জন কুকুরের কামড়ের শিকার হয়ে টিকা নিয়েছেন। গত তিন মাসে মোট ২৯৫ জনকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। সোমবার ১৭ জনকে নিয়ে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে।
বান্দরবান স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী অংচ মং মারমা বলেন, বর্তমান সময়ে কুকুরের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় কুকুরগুলো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। এ পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৌর কর্তৃপক্ষের দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এসএম মজুরুল হক বলেন, আগে বেওয়ারিশ কুকুর মেরে ফেলা হতো। তবে বর্তমানে এসব কুকুর নিধনের সুযোগ নেই। তাই বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে টিকাদানের আওতায় আনা যায় কিনা, তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করা হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
