নিরাপদ খাবার পানির তীব্র সংকটে দিরাই-শাল্লার হাজারও পরিবার
Advertisement
জিয়াউর রহমান লিটন, দিরাই (সুনামগঞ্জ)
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
চান্দপুর গ্রামের নারীরা উপজেলা পরিষদে গিয়ে ইউএনওর কাছে গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবি জানান
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় পুরোনো টিউবওয়েলগুলো থেকে পানি উঠছে না। ফলে নিরাপদ খাবার পানির তীব্র সংকটের মুখে পড়েছেন এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত পরিবর্তন এবং ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে হাওড়াঞ্চলে পানির স্থিতিশীল স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় পানির স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০–৪৫ ফুট গভীরে নেমে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, পৌরসভায় অন্তত ৪০ হাজার মানুযের বসবাস। পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত না হওয়ায় সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর তাদের স্যানিটেশনের বিভিন্ন সেবা দিতে পারছে না।
দুই উপজেলায় প্রায় ৭৫ হাজার পরিবার এবং ৪ লক্ষাধিক জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তত ৭ হাজার টিউবওয়েল প্রয়োজন বলে মনে করছে জনস্বাস্থ্য বিভাগ।
পৌর প্রশাসক ইউএনও সনজিব সরকার জানান, পানি রিফাইন করে সরবরাহ করার কাজের প্রস্তুতি চলছে, বিগত দিনে সাবেক মেয়র ভূমি বরাদ্দ দিলেও প্রকল্পের কাজ হয়নি। পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানিসরবরাহ প্রকল্প কাজের টেন্ডার হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে নিরাপদ খাবার পানির চরম সংকটে পড়েছেন পৌরবাসী।
পৌরসভার পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামের সাবিনা বেগম বলেন, আমাদের ১৫টি পরিবারের পানির একমাত্র ভরসা একটি সরকারি টিউবওয়েল। সেটিতে পানি না ওঠায় আমরা চরম কষ্টে আছি। বাচ্চাদের গোসল করাতে আমাদের দূরদূরান্তে যেতে হচ্ছে। এমনকি পাশের পুকুরের পচা পানি দিয়ে রান্নাবান্নার কাজ চালাতে হচ্ছে।
শাল্লা উপজেলার সন্দীপন তালুকদার বলেন, আমাদের গ্রামে প্রায় ৪০০ পরিবারের বসবাস, ১৪টি টিউবওয়েল অচল। খাবার পানি তুলতে কষ্ট হচ্ছে। স্নানসহ দৈনন্দিন কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চান্দপুর টুক দিরাই গীর্ব্বান প্রাসাদ রায় শংকু বলেন, আমাদের গ্রামে পুরাতন অধিকাংশ টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। নিরাপদ খাবার পানি সংগ্রহ করতে নারীরা এদিক ওদিক দৌড়াচ্ছেন। গভীর নলকূপ থেকে পানি আনতে ভিড় জমাচ্ছেন অনেকে।
বৃহস্পতিবার চান্দপুর গ্রামের অন্তত ৪০ জন নারী উপজেলা পরিষদে অবস্থান নিয়েছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন গ্রামের অন্তত ৫০টি পরিবার বিশুদ্ধ খাবার পানি সংকটে রয়েছেন, পুরাতন কোনো টিউবওয়েলেই পানি উঠছে না, তাদের দাবি নিরাপদ খাবার পানির জন্য অচিরেই গভীর নলকূপ স্থাপন প্রয়োজন।
রফিনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শৈলেন চন্দ্র দাস বলেন, আমার ইউনিয়নে ৮০ ভাগ টিউবওয়েলে পানি উঠছে না, ১১টি নতুনপাড়ায় একটি টিউবওয়েলও নেই, ফলে বিশুদ্ধ খাবার পানির চরম সংকটে রয়েছেন ইউনিয়নবাসী। দেড়শ গভীর নলকূপ স্থাপন করলে নিরাপদ খাবার পানির চাহিদা পূরণ হবে বলে তিনি আশা করছেন।
তাড়ল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী আহমদেরও একই দাবি। তিনি জানান তার ইউনিয়নে ৯০ ভাগ টিউবওয়েল বিকল, পানি উঠছে না। অত্র ইউনিয়নে পাঁচশ টিউবওয়েল দরকার।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী উজ্জ্বল খান বলেন, ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত পরিবর্তন এবং ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে আমাদের আওতাধীন ৯টি ইউনিয়নে পানির স্থিতিশীল স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় পানির স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০–৪৫ ফুট গভীরে নেমে গেছে। এ পরিস্থিতিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে প্রচলিত ৬ নম্বর হ্যান্ডপাম্পের পরিবর্তে সাবমারসিবল পাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শুষ্ক মৌসুমে বিশেষ করে মার্চ ও এপ্রিল মাস দিরাই ও শাল্লা উপজেলার আওতাধীন ১৩টি ইউনিয়নে এবং ১টি পৌরসভায় তিন-সাড়ে তিন হাজার হ্যান্ডপাম্প থেকে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। এতে জনসাধারণ নিরাপদ খাবার পানির তীব্র সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন।
