নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে মধ্যরাতে: মাছ শিকারে নামতে প্রস্তুত হাতিয়ার জেলেরা
Advertisement
হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
মাছ ধরতে জাল প্রস্তুত করছেন জেলেরা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের দেওয়া ২২ দিনের টানা নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ মধ্যরাতে। রাত ১২টা বাজার পরই নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদী ও উপকূলীয় বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে নামবেন হাজারও জেলে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার খবরে উপকূলের জেলেপল্লিগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে; একই সঙ্গে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে মাছঘাটকেন্দ্রিক পুরো স্থানীয় অর্থনীতি।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হাতিয়ার সূর্যমুখী ঘাট, চেয়ারম্যান ঘাট ও কাজীর বাজার ঘাটসহ বিভিন্ন নৌঘাটে জেলেদের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। কেউ ট্রলার ও নৌকায় নতুন জাল তুলছেন, কেউ ছেঁড়া জাল বুনছেন, আবার কেউ কেউ ইঞ্জিনের ত্রুটি মেরামত করে, জ্বালানি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার ও বরফ বোঝাইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সূর্যমুখী ঘাটের প্রবীণ জেলে জানে আলম (৬৭) জানান, ২২ দিন ধরে কাজকর্ম বন্ধ রেখে সবাই বাড়িতে অলস সময় কাটিয়েছি। এখন রাত ১২টার পর জাল ফেলতে নদীতে নামার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। অনেক দিন পর ঘাটে আবার আগের মতো কর্মব্যস্ততা ও হাঁকডাক ফিরে এসেছে।
তবে উৎসবের আমেজের আড়ালে দীর্ঘ বিরতির কারণে জেলেদের মুখে রয়েছে দেনার দুশ্চিন্তাও। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অর্থসংকটে দিন পার করেছেন অনেক জেলে। সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত চাল দিয়ে দৈনন্দিন খরচের ঘাটতি মেটানো সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
একই ঘাটের জেলে নুর উদ্দিন বলেন, পরিবারে আটজন সদস্য। নিষেধাজ্ঞার এই ২২ দিনে সরকারি সহায়তা হিসেবে মাত্র ২৫ কেজি চাল পেয়েছি; কিন্তু শুধু চাল দিয়ে তো সংসার বাঁচে না; তেল, ডাল, লবণসহ অন্যান্য খরচ সামলাতে সুদে ধারদেনা করতে হয়েছে। এখন নদীতে কাঙ্ক্ষিত মাছ ধরা পড়লে তবেই দেনা শোধ করে হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে পারব।
শুধু জেলেরাই নন, মাছ ধরা শুরুর অপেক্ষায় রয়েছেন মাছঘাটকেন্দ্রিক বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষও। বন্ধ থাকা বরফকলগুলো সচল হয়েছে, মাছের আড়ত, মুদি দোকান ও খাবারের হোটেলগুলো ধুয়েমুছে প্রস্তুত করা হয়েছে।
কাজীর বাজার ঘাটের ব্যবসায়ী আবদুস শহিদ জানান, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ঘাটকেন্দ্রিক সব ব্যবসাই স্থবির হয়ে পড়েছিল। মধ্যরাতে ট্রলারগুলো নদীতে নামবে এবং শুক্রবার ভোর থেকে জালভর্তি মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরবে—এমন প্রত্যাশায় আড়তদার, বরফ সরবরাহকারী ও শ্রমিকরা নতুন উদ্যমে কাজে ফিরেছেন।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্র জানায়, হাতিয়ায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে দুস্থ ও অসহায় ১৫ হাজার জেলে পরিবারের মাঝে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা শতভাগ সফল করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে মেঘনা ও সাগর মোহনায় নিয়মিত যৌথ টহল চালিয়েছে মৎস্য বিভাগ, প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ। এ সময় আইন অমান্য করে মাছ শিকারের দায়ে বেশ কয়েকটি ট্রলার ও জেলেকে আটক করে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকে জেলেরা আইনসম্মতভাবে নদীতে গিয়ে মাছ শিকার করতে পারবেন। তবে নির্দিষ্ট সময়ের এক মিনিট আগেও যাতে কোনো ট্রলার নদীতে নামতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে। মধ্যরাতের পর থেকেই জেলেরা নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাবেন।
