দুর্গাপুরে পর্যটকদের নিরাপত্তায় ডেপুটি স্পিকারের যেসব উদ্যোগ
দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি নেত্রকোনার দুর্গাপুর। পাহাড়, নদী, স্বচ্ছ জলাশয় আর সবুজের সমারোহে সাজানো এ জনপদে প্রতিদিনই ছুটে আসেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটক।
সাদামাটির পাহাড়, নীল পানির লেক, বিজয়পুরের পাহাড়ি সৌন্দর্য, সোমেশ্বরী নদীর স্বচ্ছ জলধারা, রানীখং পাহাড়, গারো পাহাড়, সাধুপাড়াসহ নানা দর্শনীয় স্থান দুর্গাপুরকে পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
এসব পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার চিনামাটির পাহাড়ে স্থাপিত হতে যাচ্ছে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র।
নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের একান্ত প্রচেষ্টায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। চিনামাটির পাহাড় পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৬টি অস্থায়ী পদ সৃষ্টি এবং দুটি মোটরসাইকেল টিওঅ্যান্ডইভুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে অর্থ বিভাগ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা শাখা-৫ থেকে এ সংক্রান্ত সরকারি পত্র জারি করা হয়।
উপসচিব কাজী লুতফুল হাসান স্বাক্ষরিত ওই পত্রে দুর্গাপুরে পর্যটন এলাকা চিনামাটির পাহাড় পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপন ও এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল এবং যানবাহনের অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
দুর্গাপুরের পর্যটন শিল্পের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র বিজয়পুরের সাদামাটির পাহাড় ও চিনামাটির লেক। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এ এলাকায় প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘটে। বিশেষ করে ছুটির দিন ও বিভিন্ন উৎসবের সময় পর্যটকদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পর্যটন অঞ্চল। পাশাপাশি সোমেশ্বরী নদীর বালুচর, রানীখং পাহাড় ও ঐতিহাসিক সাধুপাড়া, গারো পাহাড়ের পাদদেশসহ আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতেও পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে।
পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটকদের চলাচলের নিরাপত্তা, অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ, অপরাধ দমন, পর্যটন এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমালের সুরক্ষায় স্থায়ী পুলিশি উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল।
চিনামাটির পাহাড়ে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপিত হলে পর্যটন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশি তৎপরতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কোনো দুর্ঘটনা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশি সহায়তা প্রদান এবং অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে এ তদন্ত কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এ উদ্যোগকে দুর্গাপুরের পর্যটন উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, তদন্ত কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শুধু চিনামাটির পাহাড় নয়, আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে। এতে পর্যটকরা আরও নিশ্চিন্তে দুর্গাপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করতে চিনামাটির পাহাড় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র নতুন ভূমিকা রাখবে- এমনটাই প্রত্যাশা দুর্গাপুরবাসীর।
