বেনাপোলে নির্যাণ তিথির ৪৯৫তম মহোৎসবে হাজার ভক্তের মিলনমেলা
Advertisement
যশোর ব্যুরো
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৪২ পিএম
বেনাপোলে নির্যাণ তিথির ৪৯৫তম মহোৎসবে হাজার ভক্তের মিলনমেলা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যশোরের সীমান্তবর্তী বেনাপোল পাটবাড়িতে হরিদাস ঠাকুরের নির্যাণ তিথি মহোৎসব সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোগ আরতি ও মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্যদিয়ে দুইদিন ব্যাপী ৪৯৫তম মহোৎসবের সমাপন হয়।
এতে দেশ বিদেশের হাজার হাজার ভক্তের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান স্থলবন্দর বেনাপোল পাটবাড়ী আশ্রম। এটি বৈষ্ণবকুল শিরোমনি শ্রী শ্রী হরিদাস ঠাকুরের ভজন কানন নামে পরিচিত।
এই স্থানটি এখানে প্রায় ৫৫০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ও গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর স্মৃতি বিজড়িত। এখানে নির্যাণ তিথি তিথি ঘিরে প্রতিবছর মহোৎসব হয়।
বুধবার নির্যাণ তিথি উৎসবের শুভ সুচনা করেন শ্রী মধাব দাস বাবাজী ও পর্ষদবৃন্দ।
নির্যাণ তিথিতে বিদগ্ধ আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন দ্বাদশ শিবকালী মন্দির বুধহাটা সাতক্ষীরার বিশ্বমঙ্গল কৃষ্ণদাস, মাগুরার শ্রীশ্রী নিতাই পৌর গোপাল সেবাশ্রমের শ্রী চিন্ময়ানন্দ দাস বাবাজী মাহরাজ, ঢাকা বৈষ্ণব দাসানুদাস শ্রীমুকুল মিত্র।
লীলা কীর্ত্তন পরিবেশনায় ছিল পশ্চিমবঙ্গের শ্রী শ্রী রাধা গিরিধারী লীলা কীর্ত্তন সম্প্রদায় ও ভগবত আলোচনা এবং নামাচার্য হরিদাস ঠাকুরের সূচক কীর্তন পরিবেশন করেন মাগুরার শালিখার লোকনাথ আশ্রমের মঠাধ্যক্ষ শচীনন্দন (সাধন) দাস বাবাজী ও পর্ষদবৃন্দ।
ভোগ আরতী কীর্তন পরিবেশন করেন শ্রী চিম্ময় দাস বাবাজী মহারাজ ও পর্ষদগণ।
বৃহস্পতিবার ভোগ আরতির মধ্য দিয়ে মিলন মেলা সাঙ্গ হয়। এই মহোৎসবে শুধু বাংলাদেশ থেকে নয়, ভারত নেপালসহ বিশ্বের নানা দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেন।
ভারত থেকে আসা অয়ন মিত্র বলেন, ভারতের অনেক জায়গায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়েছি, কিন্তু বাংলাদেশের পাটবাড়ির মতো এতো দর্শক পায়নি কোথাও।
ভারতের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নিখিল কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, হরিদাস ঠাকুরের আশ্রম বেনাপোলের পাটবাড়ির মতো এত সুন্দর অনুষ্ঠান কোথাও দেখি নাই। বৃহৎ ভারত বর্ষ অনেক ঘুরেছি। হরিদাস ঠাকুরের আশ্রম ব্যতিক্রম।
কলকাতার পূর্ণিমা ও তার মেয়ে নবরুপা বলেন, এখানে এসে আমার অন্তরটা পূর্ণ হয়ে গেল। আমি মনে করি মানুষের পাপ পূণ্য ঘোচানোর মত একটি জায়গা পাটবাড়ি হরিদাস ঠাকুরের নির্যাণ তিথি অনুষ্ঠান।
খুলনার অর্পনা বিশ্বাস ও বাগেরহাটের ছবি রানী বলেন, একজন মহাপুরুষের স্মরণ অনুষ্ঠানে আসতে পেরে ধন্য হয়েছি।
ভারতের বনগাঁয়ের শিল্পী ত্রীদেবী গাঙ্গুলি বলেন, শ্রী হরিদাস ঠাকুর ছিলেন মানবআত্মা, মানবরত্ন ও মানবকূলের দিকপাল। তার পরম আত্মার যোগসূত্র অনেক প্রসারী। নিরবে নির্ভৃতে লাখো ভক্ত শুনেছেন তার কীর্ত্তন। পরম সুখ আনন্দ উপভোগ করেছে তারা। আমার কাছে একটি অবীস্মরনীয় দিন এটি।
বেনাপোল পাটবাড়ি শ্রী শ্রী হরিদাস ঠাকুর আশ্রমের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দেবনাথ বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে আগত ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ ও অনুপ্রসাদ বিতরণের মধ্যদিয়ে মহোৎসবের সমাপনী হয়েছে।
বেনাপোল ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুরের পাটবাড়ী আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক ফণীভূষণ পাল বলেন, দেশের ৬৪টি জেলা ও বিভাগীয় শহর থেকে কয়েকশ’ গাড়ি বহরে হাজার হাজার ভক্তের সমাবেশ ঘটে এখানে। তাছাড়া পাশ্ববর্তী দেশ ভারতসহ অন্যান্য দেশের ভক্তরাও যোগ দেন।
তিনি বলেন, অন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের চেয়ে এই অনুষ্ঠানটি ভিন্ন। হাজার হাজার ভক্তের পদচারণায় মুখরিত হয়।
তিনি আরও বলেন, জাতিভেদ অন্ধ, কুসংস্কার অনাচারের মধ্যে যখন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ডুবেছিল সেই সন্ধিক্ষণে মুক্ত করতে জন্ম নিয়েছিলেন কলির ভগবান গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু। তার স্মৃতিধন্য শ্রী হরিদাস ঠাকুর পাটবাড়ি।
বেনাপোল ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুরের পাটবাড়ী আশ্রমের সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস বলেন, সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানার কেড়াগাছি গ্রামে ভক্তরুপে জন্ম নিয়েছিলেন হরিদাস। হরিদাস ঠাকুর যিনি কলির জীবগণের উদ্ধারের জন্য তার সুমধুর কন্ঠে হরিনাম সংকীর্ত্তন করে নামাচার্য নামে এবং ব্রহ্মত্ব অর্জন করে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর বদন দেখতে দেখতে মহাপ্রভুর কোলে অন্তিম নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মহাপ্রভু নিজ হস্তে পারিষদবর্গ সঙ্গে করে পুরিধামে তার সমাধী স্থাপন করেন।
