Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

মধ্যরাতে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে নববধূর সঙ্গে এসআইয়ে কাণ্ড

Advertisement

Icon

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:৫০ পিএম

মধ্যরাতে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে নববধূর সঙ্গে এসআইয়ে কাণ্ড

হাসপাতালে ভর্তি পুলিশের পিটুরিতে আহত নববধূ মনিরা আকতার কেমি

Advertisement

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় মধ্যরাতে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে নববধূকে পিটিয়ে জখম করেছেন এসআই রিপন মিয়া।

এসআই  রিপন মিয়াকে না জানিয়ে মামলা মীমাংসা, বিয়ে ও তাকে উৎকোচ না দেয়ায় নববধূ কলেজছাত্রী মনিরা আকতার কেমিকে (১৯) মারপিট করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার রাতে উপজেলার খুপি মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনার পর আহত কেমিকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এতে জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

জানা গেছে, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার খুপি মধ্যপাড়া গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে এমরান হোসেন সুইট ও একই উপজেলার খুপি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের মেয়ে মনিরা আকতার কেমি স্থানীয় ফজিলা আজিজ টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী। সুইট গত বছর ও কেমি চলতি বছর উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন।

সুইট কলেজে পড়ার সময় কেমির প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হলে কেমি গত ১৪ সেপ্টেম্বর সুইটের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের মামলা করেন। পুলিশ পরদিন সুইটিকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়।

এদিকে কেমি ও সুইটের পরিবার মীমাংসা করে আদালতে কাগজপত্র জমা দিলে গত ৩১ অক্টোবর সুইটের জামিন হয়। ১ নভেম্বর পারিবারিকভাবে বিয়ে হলে সুইট তার নববধূ কেমিকে গাবতলীর খুপি মধ্যপাড়ার বাড়িতে নিয়ে যান।

এমরান হোসেন সুইট অভিযোগ করেন, মামলা মীমাংসা ও কেমিকে বিয়ে করায় ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাবতলী থানার এসআই  রিপন মিয়া তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হন। তিনি তাকে হুমকি ও ১০ হাজার টাকা দাবি করেন।

তিনি জানান, কেমিকে ফোনে তাকে (সুইট) হত্যা, মাদক মামলা দিয়ে জেলে দেয়ার হুমকি দেন এসআই  রিপন। রোববার রাত ১০টার দিকে সাদা পোশাকে এসআই  রিপন মিয়া ও ৪-৫ জন দরজা ভেঙে বাড়িতে ঢোকেন। সুইট টের পেয়ে পালিয়ে গেলে পুলিশ কর্মকর্তা তার লোকজন নিয়ে ঘরে ঢোকে।

সুইট আরও জানান, তারা নববধূ কেমিকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে সুইট কোথায় তা জানতে চায়। কেমি বলতে দেরি করায় এসআই  রিপন মিয়া লাঠি ও টর্চ লাইট দিয়ে কেমিকে মারপিট করে। এ ছাড়া তার মাথায় কিলঘুষি ও চড়-থাপ্পড় দেন।

তিনি জানান, কেমির চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পুলিশ কর্মকর্তা ও তার লোকজনকে ঘেরাও করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে এসআই  রিপন মিয়া ও তার সঙ্গে আসা পুলিশ এবং সোর্স নিয়ে সটকে পড়ে।

এমরান হোসেন সুইট জানান, রাত ১২টার দিকে তার আহত স্ত্রী কেমিকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গাবতলী থানার এসআই  রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে নিরীহ জনগণকে পকেটে মাদক ঢুকিয়ে গ্রেফতার করে টাকা আদায় ও হয়রানির অনেক অভিযোগ রয়েছে।

সোমবার দুপুরে হাসপাতালে নববধূ মনিরা আকতার কেমি সাংবাদিকদের কাছে তাকে নির্যাতনের বিচার দাবি করেন।

এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই  রিপন মিয়া দাবি করেছেন, তিনি আসামি ধরতে গিয়েছিলেন। তিনি বা তার লোকজন কাউকে মারপিট করেননি। নববধূ কেমি ভয় পেয়ে চিৎকার করেছেন।

এসআই  রিপন মিয়ার মতো গাবতলী থানার ওসি সেলিম হোসেনও দাবি করেছেন, গৃহবধূ কেমিকে কেউ মারপিট করেনি।

গাবতলী সার্কেলের সিনিয়র এএসপি সাবিনা ইয়াসমিন জানান, তিনি রাজশাহীতে কর্মশালায় আছেন। এর পরও গাবতলীর গৃহবধূকে মারপিটের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেছেন, তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে এসআই  রিপনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Advertisement

বগুড়া

Advertisement

আরও পড়ুন

প্রতিমা দেখতে বেরিয়ে আর ঘরে ফেরা হলো না শোভন-দিশার

প্রতিমা দেখতে বেরিয়ে আর ঘরে ফেরা হলো না শোভন-দিশার

ফরিদগঞ্জে জালটাকা দিয়ে কেনাকাটা, ৪ নারী আটক

ফরিদগঞ্জে জালটাকা দিয়ে কেনাকাটা, ৪ নারী আটক

চসিকের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির মামলা, তিনজন কারাগারে

চসিকের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির মামলা, তিনজন কারাগারে

পশু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সহকারীর হাতে প্রসব, নবজাতকের মৃত্যু

পশু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সহকারীর হাতে প্রসব, নবজাতকের মৃত্যু

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম