তীব্র স্রোতে ফেরি চলাচল ব্যাহত, ঘাটে আটকা পড়েছে ৮ শতাধিক যান
Advertisement
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২০, ১০:৫৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিটি ফেরি নদী পার হতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। এতে উভয় পাড় মিলে আটকে আছে অন্তত ৮ শতাধিক পণ্যবাহী যানবাহন।
তীব্র স্রোতের বিপরীতে চলতে না পেরে ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিনের দুটি ফেরি বসা আছে। ফলে এ রুটের বহরে থাকা ১৫টি ফেরির মধ্যে ১৩টি ফেরি চলাচল করছে। এ অবস্থার মধ্যে তীব্র স্রোতের ফেরি চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটের অনেক যানবাহন দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে আসছে। এতে সমস্যা আরও বেড়ে গেছে।
এ দিকে ঘাট এলাকায় যানবাহন আটকা পড়ে চালক ও সহকারীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। আটকে থাকা যানবাহনের মধ্যে দৌলতদিয়া প্রান্তে অন্তত ৫০০ এবং পাটুরিয়া প্রান্তে অন্তত ৩০০ যানবাহন রয়েছে বলে ঘাট সূত্র জানায়।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট অফিস ও অন্যান্য সূত্রে জানা যায়, পদ্মা-যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। প্রচণ্ড স্রোতের বিপরীতে রুটের ফেরিগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটেও তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ফেরি পারাপারে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে।
মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের অন্তত ২ কিলোমিটার জুড়ে অপচনশীল মালবোঝাই ট্রাকের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এ ছাড়া একইভাবে মহাসড়কের গোয়ালন্দ মোড়ে ৩ শতাধিক মালবোঝাই ট্রাক সিরিয়ালে আটকে রাখা হয়েছে। এ সময় বাস ও কাঁচামাল বোঝাই ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পার হতে দেখা যায়।
গোয়ালন্দ মোড় থেকে পুলিশ ফেরির চাহিদা মতো অল্প অল্প করে ট্রাক ছাড়ছে। এ সময় কিছু দালাল শ্রেণির লোকজনকে সুযোগ বুঝে দৌলতদিয়া ঘাটে ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করে তাদের পছন্দের ট্রাককে সিরিয়াল থেকে বাম দিয়ে বেড় করে সবার আগে ফেরিতে তুলে দিতে দেখা যায়। দালাল-পুলিশের এ অবৈধ কার্যক্রম রাতের বেলায় বেশি দেখা যায়। এ কাজে কিছু নামধারী কথিত সাংবাদিকও জড়িত আছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া অফিসের ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ রনি জানান, এ রুটে ১৫টি ফেরির মধ্যে ১৩টি ফেরি চলছে। শাহজালাল এবং সন্ধ্যা মালতি ফেরি দুটি যান্ত্রিক সমস্যা এবং তীব্র স্রোতের কারণে চলতে পারছে না। এতে ফেরির ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে। ফেরি পাড়ে অতিরিক্ত সময় লাগছে। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটেরও অনেক যানবাহন এ দিক দিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, এতে আমাদের ঘাট এলাকায় যানবাহনের সিরিয়াল সৃষ্টি হয়েছে। তবে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে যাত্রীবাহী যানবাহন ও কাঁচামালের ট্রাকগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে।
