Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

৫২৬ বছরের ঐতিহাসিক বিজয় গুপ্তর মনসা মন্দিরে বাৎসরিক পূজা

Advertisement

Icon

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২০, ০৭:৩৯ পিএম

৫২৬ বছরের ঐতিহাসিক বিজয় গুপ্তর মনসা মন্দিরে বাৎসরিক পূজা

৫২৬ বছরের ঐতিহাসিক বিজয় গুপ্তর মনসা মন্দিরে বাৎসরিক পূজা

Advertisement

মধ্যযুগের অমর কাব্যগ্রন্থ ‘মনসা মঙ্গল’ কাব্যের রচয়িতা ও বাংলা সাহিত্যের অমর কবি বিজয় গুপ্তর প্রতিষ্ঠিত ‘মনসাকুণ্ড’ খ্যাত বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ৫২৬ বছরের মনসা মন্দিরে বাৎসরিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কোনোরকম আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই ধর্মীয় আচার-আচরণের মধ্য দিয়ে সোমবার এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পঞ্জিকা মতে, প্রতি বছর বাংলা শ্রাবণ মাসের শেষ দিনে বিষহরি (বিষ হরণকারী) বা মনসা দেবীর পূজা ভারতীয় উপমহাদেশে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। অন্যান্য বছর মহাধুমধামে পূজা অনুষ্ঠিত হলেও বৈশ্বিক করোনা মহামারীর কারণে এ বছর শুধু ধর্মীয় আচারবিধি মেনেই পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বল্পপরিসরে আগত ভক্তরা মা মনসার মন্দিরে তাদের মানত করা দুধ, কলা, ফল, মিষ্টি প্রদান করেছেন।

ঐতিহাসিক মনসা মঙ্গল কাব্যমতে, ৫২৬ বছর আগে মধ্য যুগে সুলতান হোসেন শাহের শাসনামলে ইংরেজি ১৪৯৪ সালে কবি বিজয় গুপ্ত দেবী মনসা কর্তৃক স্বপ্নে দেখে নিজ বাড়ির বিশাল দীঘি থেকে পূজার একটি ঘট পেয়ে গৈলা গ্রামের নিজ বাড়িতে মনসা দেবীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করে পূজা অর্চনা শুরু করেন। পরে দেবী মনসার আদেশে দিঘীর ঘাটের পার্শ্ববর্তী একটি বকুল গাছের নিচে বসে স্বপ্নে আদিষ্ট হয়েই ‘মনসা মঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন বিজয় গুপ্ত।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক সুলতান হোসেন শাহের রাজত্বকালে ওই বছর বিজয় গুপ্ত মনসা মঙ্গল রচনা করে রাজ দরবারে মহাকবির খেতাবে ভূষিত হয়েছিলেন।

জনশ্রুতি রয়েছে, দেবী পদ্মা বা মনসা বিজয় গুপ্তের কাব্য রচনায় সন্তুষ্ট হয়ে আশীর্বাদ হিসেবে বিজয় গুপ্তকে স্বপ্নে বলেছিলেন ‘তুই নাম চাস, না কাজ চাস?’ উত্তরে বিজয় গুপ্ত বলেছিলেন ‘আমি নাম চাই’। যে কারণে তার নাম বিশ্বেব্যাপী ছড়িয়ে পড়লেও তিনি দেহত্যাগ করেছেন উত্তরাধিকারবিহীন। বিজয় গুপ্তর জন্ম তারিখ গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যে নির্ণয় করা হলেও মৃত্যুকাল সম্পর্কে সঠিক কোনো দিন তারিখ গবেষকেরা বলতে পারেননি।

তবে গবেষকদের ধারণামতে, সম্ভবত ৭০ বছর বয়সে ১৫২০ খ্রিস্টাব্দে কাশীধামে বিজয় গুপ্ত দেহত্যাগ করেন। বিজয় গুপ্তই সর্বপ্রথম তার রচিত মনসা মঙ্গল কাব্যে ইংরেজি দিন, তারিখ ও সালের লিপিবদ্ধ করেন। এর আগেও একাধিক পণ্ডিত ও কবিরা মনসা মঙ্গল রচনা করেছিলেন। যার অন্যতম ছিলেন ময়মনসিংহের কানা হরি দত্ত। কিন্তু তাদের তুলনায় বিজয় গুপ্তর কাব্য নিরস হলেও নৃপতি তিলকের (সুলতান হোসেন শাহ) গুণকীর্তন ও ইংরেজি দিন, তারিখ ও সালের লিপিবদ্ধ করার কারণে তিনিই হয়ে উঠেন মনসা মঙ্গল কাব্য রচয়িতাদের মধ্যে অন্যতম।

মহাকবি খেতাব পাওয়ার পর সমগ্র ভারতবর্ষে মহাধুমধামে মনসা দেবীর পূজার প্রচলন ঘটে। মহাকবি বিজয় গুপ্তের পিতার নাম সনাতন গুপ্ত ও মাতার নাম রুক্মিণী দেবী। বর্তমানে মনসা মন্দিরটি ধর্মীয় উপাসনালয়ের পাশাপাশি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছে।

বরিশাল জেলা প্রশাসন জেলার দর্শনীয় স্থানের তালিকার শীর্ষে রেখেছে ঐতিহাসিক বিজয় গুপ্তের মনসা মন্দিরের নাম। দেশ-বিদেশের পুণ্যার্থী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের পর্যটনের উল্লেখযোগ্য স্থান হিসেবে রয়েছে এ মন্দিরের নিজস্ব স্বীকৃতি।

Advertisement

বরিশাল মনসা মঙ্গল

Advertisement

আরও পড়ুন

একসঙ্গে প্রাণ গেল একই পরিবারের ৪ জনের

একসঙ্গে প্রাণ গেল একই পরিবারের ৪ জনের

ইমোতে প্রেমের পর বিয়ে, অতঃপর...

ইমোতে প্রেমের পর বিয়ে, অতঃপর...

নিখোঁজ সাবেক ইউপি সদস্যের লাশ উদ্ধার

নিখোঁজ সাবেক ইউপি সদস্যের লাশ উদ্ধার

ইসলামের বুকে ছুরি মারবেন না: জামায়াতের উদ্দেশে রাশেদ খান

ইসলামের বুকে ছুরি মারবেন না: জামায়াতের উদ্দেশে রাশেদ খান

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম