টনসিল ফুলে গলা ব্যথা? যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বর্ষাকালে সর্দি-কাশি ও গলা ব্যথায় আক্রান্ত হন অনেকেই। সাধারণ গলা ব্যথা অনেক সময় নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে গলা ব্যথার সঙ্গে জ্বর, টনসিল ফুলে যাওয়া, খাবার বা পানি গিলতে কষ্ট এবং ঘাড়ের পাশ বা কানের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়লে তা টনসিলাইটিসের লক্ষণ হতে পারে।
চিকিৎসকরা বলেন, টনসিলাইটিস হলো গলার পেছনে থাকা টনসিলের টিস্যুতে প্রদাহ ও ফুলে যাওয়ার অবস্থা।
কেন হয়, লক্ষণ কী?
চিকিৎসকদের মতে, টনসিলাইটিস সাধারণত ভাইরাসের সংক্রমণে হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়াও এর কারণ হতে পারে। এর মধ্যে গ্রুপ এ স্ট্রেপটোকক্কাস অন্যতম।
টনসিলাইটিসের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে গলা ব্যথা, জ্বর, টনসিল লাল বা ফুলে যাওয়া, খাবার গিলতে কষ্ট, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, মুখে দুর্গন্ধ এবং ঘাড়ের লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া। কিছু ক্ষেত্রে টনসিলের ওপর সাদা দাগ বা পুঁজও দেখা যেতে পারে।
ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত টনসিলাইটিসের লক্ষণ অনেকটাই একই হওয়ায় বাড়িতে বসে দুটির পার্থক্য বোঝা কঠিন। তাই গলা ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা উপসর্গ বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।
চিকিৎসা কী?
টনসিলাইটিসের চিকিৎসা নির্ভর করে এর কারণের ওপর। ভাইরাসজনিত টনসিলাইটিস সাধারণত নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, বেশি করে পানি পান এবং ব্যথা ও জ্বর কমানোর ওষুধ উপসর্গ উপশমে সহায়তা করতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, নিরাপদ হলে প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন ব্যথা ও জ্বর কমাতে ব্যবহার করা যেতে পারে। গরম লবণ পানিতে গার্গল করলেও সাময়িকভাবে গলার ব্যথা কমতে পারে। গিলতে কষ্ট হলেও শরীরে পানিশূন্যতা ঠেকাতে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাকটেরিয়াজনিত টনসিলাইটিসে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হতে পারে। ভাইরাসজনিত সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বারবার টনসিলাইটিস হলে বা জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসক টনসিল অপসারণের অস্ত্রোপচার বা টনসিলেকটমির কথা বিবেচনা করতে পারেন।
কখন দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে?
টনসিলাইটিস সবসময় গুরুতর নয়। তবে তীব্র গলা ব্যথা বা জ্বর, উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হওয়া, গিলতে ক্রমেই বেশি কষ্ট হওয়া, গলা ফুলে যাওয়া, মুখ খুলতে সমস্যা, এক পাশে গলা বা কানে ব্যথা এবং কণ্ঠস্বর পরিবর্তিত বা ভারী হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এসব লক্ষণ টনসিলের পাশে পুঁজ জমে যাওয়ার মতো জটিলতা, যাকে পেরিটনসিলার অ্যাবসেস বা ‘কুইন্সি’ বলা হয়, তার ইঙ্গিত হতে পারে। শ্বাস নিতে কষ্ট, নিজের লালা গিলতে না পারা বা হঠাৎ গলার ফোলা বেড়ে গেলে তা জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
টনসিলাইটিস পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সবসময় সম্ভব নয়। তবে নিয়মিত হাত ধোয়া, অন্যের কাপ, বোতল বা খাবারের পাত্র ব্যবহার না করা এবং হাঁচি-কাশির সময় মুখ-নাক ঢেকে রাখলে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমানো যায়। পর্যাপ্ত ঘুম, পানি পান ও সুষম খাবারও সুস্থ হয়ে উঠতে সহায়ক।
ভাইরাস না ব্যাকটেরিয়া—কোন ধরনের সংক্রমণ এবং কতটা গুরুতর, তার ওপর সুস্থ হতে সময় নির্ভর করে। তবে উপসর্গ দ্রুত বাড়তে থাকলে কিংবা গিলতে বা শ্বাস নিতে সমস্যা হলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

