ভবিষ্যৎ আর্থিকভাবে নিরাপদ থাকতে আজই মেনে চলুন ৫ অভ্যাস
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৬ এএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
উৎসব-পার্বণ শুধু আনন্দ ও উপহার দেওয়ার সময় নয়, ভালো আর্থিক অভ্যাস গড়ে তোলারও সুযোগ। এ সময় অপ্রয়োজনীয় খরচের বদলে সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার বিষয়ে সচেতন হওয়া যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনের শুরু থেকেই কিছু মৌলিক আর্থিক অভ্যাস গড়ে তুললে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
দামী উপহারের বদলে সম্পদ তৈরি করুন
উৎসব উপলক্ষে পোশাক, গ্যাজেট বা দামি হ্যাম্পার কেনার বদলে এমন কিছুতে অর্থ ব্যয় করা যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে সম্পদে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। অর্থের পরিমাণ অনুযায়ী সোনা বা রুপা, ফিক্সড ডিপোজিট (এফডি) কিংবা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞের মতে, প্রতিটি উপহার থেকে আর্থিক লাভ করাই উদ্দেশ্য নয়। বরং উৎসবের মতো উপলক্ষকে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ভালো অভ্যাস তৈরির সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। কয়েক হাজার টাকা এমন কোনো সম্পদে বিনিয়োগ করলে তা কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়া উপহারের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদে বেশি মূল্যবান হতে পারে।
নিজের সামর্থ্যের মধ্যেই খরচ করুন
জীবনযাত্রার মান ধরে রাখতে ধার করা আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো কিছু কেনার অর্থ বর্তমান আয় বা সঞ্চয় থেকে স্বচ্ছন্দে বহন করা সম্ভব না হলে কিছুদিন অপেক্ষা করাই ভালো। অপ্রয়োজনীয় খরচের জন্য ঋণ নিলে ভবিষ্যতের আয় আগেই খরচ হয়ে যায়। এতে ধীরে ধীরে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হতে পারে। আর্থিক স্বাধীনতার অন্যতম ভিত্তি হলো নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী খরচ করা।
ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভরশীলতা কমান
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা চলে যায় না। ফলে খরচ করা সহজ মনে হতে পারে। কিন্তু এর কারণে অনেক সময় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খরচ হয়ে যায়। নিয়মিত খরচের জন্য ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভর না করে নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থাকা অর্থ ব্যবহার করাই ভালো। বিশেষ করে ক্রেডিট কার্ডের উচ্চ সুদের বকেয়া এড়িয়ে চলা জরুরি। কোনো কিছু কেনার আগে ক্রেডিট সীমা কত আছে তা না ভেবে, কেনাকাটাটি সত্যিই সামর্থ্যের মধ্যে কি না, সেটি বিবেচনা করা উচিত।
জরুরি তহবিল গড়ে তুলুন
হঠাৎ চাকরি হারানো, চিকিৎসা ব্যয় বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো বড় খরচের সময় জরুরি তহবিল গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সুরক্ষা দিতে পারে। তাই কয়েক মাসের প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর মতো অর্থ আলাদা করে রাখার অভ্যাস করা উচিত। জরুরি তহবিল থাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ঋণ নেওয়া বা অন্যের ওপর আর্থিকভাবে নির্ভর করার প্রয়োজন কমে।
দ্রুত ও নিয়মিত বিনিয়োগ শুরু করুন
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়। যত আগে বিনিয়োগ শুরু করা যায়, অর্থকে তত বেশি সময় চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ার সুযোগ দেওয়া সম্ভব। ফিক্সড ডিপোজিট, মিউচুয়াল ফান্ড, সোনা কিংবা ঝুঁকি ও আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্য কোনো সম্পদে নিয়মিত বিনিয়োগ করা যেতে পারে। তবে বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট পণ্যের ঝুঁকি ও সম্ভাব্য রিটার্ন সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য বড় অঙ্কের অর্থের চেয়ে নিয়মিত সঞ্চয়, নিয়ন্ত্রিত খরচ, জরুরি তহবিল এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অভ্যাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
