নাকের অ্যালার্জিতে বারবার হাঁচি—কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন?
Advertisement
ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঘন ঘন হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ থাকা কিংবা নাকে চুলকানি—এসব উপসর্গ অনেকেরই দৈনন্দিন জীবনে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর অন্যতম সাধারণ কারণ হলো অ্যালার্জিক রাইনাইটিস। ধুলাবালি, ধোঁয়া, পরাগরেণু, ছাঁচ, পোষা প্রাণীর লোম বা ত্বকের ক্ষুদ্র কণা ইত্যাদির সংস্পর্শে এলে সংবেদনশীল ব্যক্তির নাকে অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।
অ্যালার্জিক রাইনাইটিস নিয়ন্ত্রণে কী করবেন?
১. অ্যালার্জির কারণ চিহ্নিত করে এড়িয়ে চলুন: কোন কোন উপাদানের সংস্পর্শে হাঁচি বা নাকের সমস্যা বাড়ে, তা লক্ষ্য করুন এবং সম্ভব হলে সেগুলো এড়িয়ে চলুন। ধুলাবালি ও ধোঁয়া থেকে বাঁচতে প্রয়োজন অনুযায়ী ভালো মানের মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে।
২. ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখুন: বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও পর্দা নিয়মিত পরিষ্কার করুন। ঘর ঝাড়ু দেওয়ার পরিবর্তে ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করলে ধুলা বাতাসে কম ছড়ায়। কার্পেট, ভারী পর্দা ও অতিরিক্ত নরম আসবাবপত্রে ধুলা জমে অ্যালার্জির উপসর্গ বাড়তে পারে।
৩. নাক পরিষ্কার রাখতে স্যালাইন ব্যবহার করুন: স্যালাইন নাসাল স্প্রে কিংবা নাসাল ইরিগেশন নাকের ভেতরের জমে থাকা ধুলা, অ্যালার্জেন ও অতিরিক্ত শ্লেষ্মা পরিষ্কার করতে সাহায্য করতে পারে। সাইনাস কিউর দিয়ে নাসাল ইরিগেশনের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিরাপদ কুসুম গরম পানি ও সঠিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।
৪. জীবনযাপনে কিছুটা সতর্কতা রাখুন: ধোঁয়া, তীব্র গন্ধ ও দূষিত পরিবেশ এড়িয়ে চলুন। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম সামগ্রিক সুস্থতার জন্য উপকারী। তবে ঠান্ডা পানি বা নির্দিষ্ট কোনো খাবার সব অ্যালার্জিক রাইনাইটিস রোগীর জন্য নিষিদ্ধ—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। কারো নির্দিষ্ট কোনো খাবারে উপসর্গ বাড়লে সেটি ব্যক্তিভেদে এড়িয়ে চলা যেতে পারে। তীব্র গন্ধ ও উত্তেজক পদার্থ থেকে দূরে থাকুন। পারফিউম, স্প্রে, ধূপ, মশার কয়েলের ধোঁয়া, পেইন্টের গন্ধ বা অন্যান্য তীব্র রাসায়নিক গন্ধ অনেকের হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। সবার প্রতিক্রিয়া এক নয়। আপনার কোন বিষয়টি—ধুলো, ধোঁয়া, পরাগরেণু, পোষা প্রাণী, ঠান্ডা বাতাস বা কোনো নির্দিষ্ট খাবার—উপসর্গ বাড়াচ্ছে, তা লক্ষ্য করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করাই সবচেয়ে কার্যকর।
৫. ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন বিবেচনা করুন: অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের চিকিৎসা হিসেবে ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) ভ্যাকসিন দেওয়া হয় না। তবে ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণ প্রতিরোধে এটি কার্যকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বয়স, শারীরিক অবস্থা ও স্থানীয় টিকাদান নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের রোগীরা প্রতি বছর ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নিতে পারেন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
হাঁচির সঙ্গে যদি বারবার নাক বন্ধ থাকে, নাক দিয়ে পানি পড়ে, নাকে বা চোখে চুলকানি হয়, ঘুম ও দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলতে থাকে, তাহলে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নিজে থেকে দীর্ঘদিন অ্যান্টিহিস্টামিন বা নাক খোলার ডিকনজেস্ট্যান্ট ড্রপ ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষ করে কিছু ডিকনজেস্ট্যান্ট নাসাল ড্রপ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে উলটো নাক আরও বেশি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
সঠিক রোগ নির্ণয়, প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যালার্জেন এড়িয়ে চলা এবং চিকিৎসকের পরামর্শে উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের উপসর্গ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
মনে রাখুন—ঘন ঘন হাঁচিকে শুধু সাধারণ অভ্যাস মনে না করে, এর পেছনে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস আছে কিনা তা খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক: ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী, এফসিপিএস (ইএনটি)
সহকারী অধ্যাপক (ইএনটি)
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট।

